সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২:২৩ অপরাহ্ন

আর ৭৫ (প্রসব ব্যথা ও মাসিক ক্র্যাম্প)

আরোগ্য হোমিও হল / ৫৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশ কালঃ শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৪, ৩:৫৫ অপরাহ্ন
আর ৭৬ (প্রসব ব্যথা ও মাসিক ক্র্যাম্প)

Dr. Reckeweg R 75/ আর ৭৬ (প্রসব ব্যথা ও মাসিক ক্র্যাম্প)
 আর ৭৫ (প্রসব ব্যথা ও মাসিক ক্র্যাম্প)
R 75 (Labour Pain and Menstrual Cramps)
আরোগ্য হোমিও হল এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা এখানে আলোচনা করবো “ আর ৭৫ (প্রসব ব্যথা ও মাসিক ক্র্যাম্প)” কম্বিনেশন হোমিওপ্যাথি ঔষধ নিয়ে আজকে জনবো, এটা সবার জানা জরুরী! তো আর কথা নয় – সরাসরি মূল আলোচনায়।
প্রস্তুত প্রণালী : Dr. Reckeweg R 75/ জার্মান কম্বিনেশন (ডিসমেনোরিয়া) হোমিওপ্যাথি ঔষধ।
ব্যবহার : আর ৭৫ ড্রপসটি মহিলা প্রজনন অঙ্গগুলির সাথে সম্পর্কযুক্ত। এটিতে ক্যালোফিলাম থ্যালিকট্রয়েডস, ক্যামোমিলা ইত্যাদির মতো উপাদান রয়েছে যা ডিসমেনোরিয়া (বেদনাদায়ক মাসিক), ক্র্যাম্পিং ব্যথা এবং প্রসব বেদনায় কাজ করে। এটি বেদনাদায়ক ক্র্যাম্পিং অবস্থায় অ্যান্টিস্পাসমোডিক অ্যাকশন ও উপশম করে।
আর ৭৫ ড্রপসটির ইঙ্গিত: ডিসমেনোরিয়া, ক্র্যাম্পিং ব্যাথা, প্রসব বেদনা।
বায়ো কম্বিনেশন ২৫ (অম্লতা, পেট ফাঁপা ও বদহজম)
আর ৭৫ ডিসমেনোরিয়া ড্রপসটির লক্ষণ : অনিয়মিত মাসিকের সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে ডিসমেনোরিয়া অন্যতম। এটি বেদনাদায়ক মাসিকে বোঝায়। মাসিক শুরু হওয়ার সময় এটি প্রযোয্য। যে যে সব নারীর পিরিয়ড বেশি, যাদের শরীরের ওজন কম, যে নারীর পিরিয়ড বারো বছর বয়সের আগে শুরু হয়েছিল সেসব নারীর মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। ডিসমেনোরিয়া হল চিকিৎসা একটি শব্দ যা বেদনাদায়ক ক্র্যাম্পের জন্য ব্যবহারিত হয় যা মাসিকের সময় অথবা তার ঠিক আগে হতে পারে। সাধারণত দুই ধরনের ডিসমেনোরিয়া হয়ে থাকে এর মধ্যে হল একটি প্রাথমিক ডিসমেনোরিয়া ও সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া সাধারণত মাসিক শুরু হওয়ার এক/দুই বছর পরে শুরু হয়। এই সমস্যা হলে পিঠে বা তলপেটে ব্যথা অনুভূত হয়। সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া বলতে নারীর প্রজনন অঙ্গে ব্যাধির কারণে সৃষ্ট ব্যথাকে বোঝায়। এই অবস্থায় ক্র্যাম্পগুলি সাধারণত মাসিক চক্রের পূর্বে শুরু হয় এবং সাধারণ মাসিকের ক্র্যাম্পের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী হয়। ডিসমেনোরিয়ার উপসর্গগুলি সাধারণত তিন দিনেরও কম সময় ধরে থাকতে পারে। ব্যথা সাধারণত তলপেটে হয়। লক্ষণগুলি হলো বমি বা বমি ভাব, ডায়রিয়া, পিঠে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

আরও পড়ুন –  অ্যাডাল-৩১ (পিরিয়ড সংক্রান্ত)

আর ৭৫ ডিসমেনোরিয়া ড্রপসটির মুল উপদান :
(১) কলোফিলাম থ্যালিকট্রয়েডস D2 (Caulophyllum Thalictroid D2)।
(২) কাপরাম অ্যাসিটিকাম  D4 (Cuprum Aceticum D4)।
(৩) ক্যামোমিলা D30 (Chamomilla D30)।
(৪) ম্যাগনেশিয়া ফসফোরিকা D6 (Magnesium Phosphoricum D6)।
(৫) সিমিসিফুগা D3 (Cimicifuga D3)।
(৬) ভাইবার্নাম ওপিউলাস D2 (Viburnum Opulus D2)।

আরও পড়ুন –  অনিচিকিৎসায়মিত ঋতুস্রাবে হোমিওপ্যাথিক 

আর ৭৫ ডিসমেনোরিয়া ড্রপসটির মূল বৈশিষ্ট্যগুলি অনিয়মিত মাসিকের কারণগুলির চিকিৎসার জন্য নিম্নলিখিত উপাদানগুলি থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
(ক) কলোফিলাম থ্যালিকট্রয়েডস (Caulophyllum Thalictroid)  :  তলপেটের খিঁচুনির ফিট লেগে যায়।
(খ) কাপরাম অ্যাসিটিকাম (Cuprum Aceticum) :  গুরুতর ডিসমেনোরিয়া কার্যকর।
(গ) ক্যামোমিলা (Chamomilla) : অতিরিক্ত সংবেদনশীল অবস্থার আচরণ করে।

আরও পড়ুন –   ঋতুস্রাব সমস্যা প্রতিকারে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

(ঘ) ম্যাগনেশিয়া ফসফোরিকা (Magnesium Phosphoricum) :  এটি মাসিকের সূত্রপাতের মতো প্রাকৃতিক স্রাব দ্বারা প্রশমিত ডিসমেনোরিয়ার চিকিৎসায় কাজ করে
(ঙ) সিমিসিফুগা (Cimicifuga) : এটি অনিয়মিত মাসিকের কারণের চিকিৎসা করে এবং তলপেটের এলাকায় হঠাৎ শ্যুটিং ব্যথা উপশম করে।
(ঙ) ভাইবার্নাম ওপিউলাস (Viburnum opulus) :  এটি তলপেটের খিঁচুনি চিকিৎসা করে ও উরুতে প্রসারিত হয় এবং অনিয়মিত পিরিয়ড হয়।

আরও পড়ুন –  এইচ আর – ২১ (মাসিক সমস্যায় কার্যকর)

আর ৭৫ ড্রপসটি প্রশংসাসূচক :
ডিসমেনোরিয়া স্প্যাজমের জন্য আর ৭৫/আর ৩৭ এই ব্যথা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামক প্রাকৃতিক রাসায়নিকের কারণে হয় যা জরায়ুর আস্তরণে তৈরি হয় ও জরায়ুর পেশী এবং রক্তনালীগুলিকে সংকুচিত করে। এই স্পাজমা কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর হতে পারে এবং পুরো পেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এই ধরনের ক্ষেত্রে সংমিশ্রণের পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে।
ডিসমেনোরিয়া এবং মেনোরেজিয়ার জন্য আর ৭৫/ আর ২৮। হরমোনের সমস্যা, জরায়ুতে সমস্যা অথবা অন্যান্য স্বাস্থ্যের কারণে দীর্ঘস্থায়ী মাসিক সহ ভারী রক্তপাত হতে পারে। এই ধরনের ক্ষেত্রে এই সমন্বয় পরামর্শ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন –   কেন্ট ১২ (অনিয়মিত মাসিক রোগে কার্যকর)

আর ৭৫ ড্রপসটি সেবনি বিধি : একবার সীলটি ভেঙে ফেললে, ওষুধগুলি দ্রুত ব্যবহার করা উচিত।  প্রচণ্ড ব্যথা এবং প্রসব বেদনায় ডোজঃ প্রতি ১/৪ থেকে ১/২ ঘন্টা পর পর ঘন ঘন ১০ ফোঁটা এক ঢোক পানিতে মিশিয়ে নিন সেবন করুণ। উন্নতির সাথে সাথে প্রতি ১ থেকে ২ ঘন্টায় ১০-১৫ ফোঁটা দিন। ডিসমেনোরিয়ায় ১০-১৫ ফোঁটা একঢোক জলে মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার সেবন করুণ। অথবা রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে হবে।
চিকিৎসকের কিছু পরারর্শ : ওষুধ খাওয়ার সময় মুখের কোনো তীব্র গন্ধ যেমন কফি, পেঁয়াজ, শিং, পুদিনা, কর্পূর, রসুন ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন। খাবার/পানীয়/অন্য কোনো ওষুধ এবং অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের মধ্যে অন্তত আধা ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন।
সতর্কতা : গর্ভবতী মা অথবা দুগ্ধদানকারী মারা ঔষধ সেবনের পূর্বে রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ সেবন করা উত্তম।

আরও পড়ুন –  এন – ১০ (অনিয়মিত মাসিকের ড্রপস)

সতর্কতা : গর্ভবতী মা অথবা দুগ্ধদানকারী মায়েরা ঔষধ সেবনের পূর্বে রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ সেবন করা উত্তম।

শর্তাবলী : কম্বেনেশন হোমিওপ্যাথি ঔষধগুলি সাধারণত লক্ষণে উপর ভিভি করে ব্যবহার করা হয়। মনে রাখবেন হোমিওপ্যাথিক সদৃশ্য বিধান একটি চিকিৎসা ব্যবস্থা, বেশি লক্ষণে সঙ্গে মিলিলে তবেই ব্যবহার যোগ্য। তা না হলে অবস্থার উপর নির্ভর করে ফলাফল পরিবর্তিত হতে পারে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : হোমিওপ্যাথি সর্বোত্তম চিকিৎসা প্রদান করে কারণ এটি নিরাপদ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত।
ঔষধ সংরক্ষণ : সুস্ক ও শীতল স্থানে সুগন্ধ-দুগন্ধ, আলো-বাতাস থেকে দুরে, শিশুদের নাগালের বাহিরে রাখুন।
আরোগ্য হোমিও হল এডমিন : আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথিক পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন।  এই ওয়েব সাইটটি কে কোন জেলা বা দেশ থেকে দেখছেন “লাইক – কমেন্ট” করে জানিয়ে দিন। যদি ভালো লাগে তবে “শেয়ার” করে আপনার বন্ধুদের জানিয়ে দিন।  সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।  আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।


এ জাতীয় আরো খবর.......
Design & Developed BY FlameDev