সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন

স্তনের চাকা কী ক্যান্সারের আতংক

আরোগ্য হোমিও হল / ২৪৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশ কালঃ শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৩, ৫:৫৮ অপরাহ্ন

স্তনের চাকা কী ক্যান্সারের আতংক
আরোগ্য হোমিও হল এ আপনাকে স্বাগতম, এখানে আজ স্তনের চাকা কী ক্যান্সারের আতংক না আতংক হবার কারণ নেই এটা নিয়ে আলোচনা কররো। চলেন কথা না বাড়িয়ে মুল আলোচনায় যায়। স্তনের চাকা থাকলে এ সময়ে সবাই আতংকিত হন, যদি কোন নারী অনুভব করেন স্তনে চাকা হয়েছে! আচ্ছা, বিষয়টি কি আসলেই এতটা আতংকের? যদি বলি না। অবাক হওয়ার কিছুই নেই, তাহলে আসুন জেনে নেই স্তনের সব চাকাই ক্যান্সার কিনা।

প্রথম : সাধারণত বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মহিলারা প্রথমেই অনুভব করেন স্তনে ব্যাথা-বেদনা, জ্বালাপোড়া ভাব, মাসিকের একটি সুনির্দিষ্ট সময়ে স্তনের ভারিভাব আর আকারে বৃদ্ধি হয়। এই সমস্যা গুলো দেখা যায় নির্দিষ্ট সময়ের পর আর থাকে না অথবা একটা সময়ে আপনার এই অস্বস্তি কমে যাবে। চাকা ভাব পুরো পুরি চলে যাবে অথবা কম অনুভব হবে। এটা খুব স্বাভাবিক। মাসিকের নির্দিষ্ট সময়ে মেয়েলি কিছু হরমোন উঠানামা করার কারনে এই চাকা বা চাকা ভাব হতে পারে। এটি কিন্তু ক্যান্সার এর থেকে অনেক বেশি ক্ষেত্রে মহিলাদের থাকে। ক্যান্সার আতংকের কারনে এই বিষয় নিয়ে মহিলারা প্রচন্ড উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এটিকে ফাইব্রোসিস্টিক পরিবর্তন বলা হয়। বিভিন্ন সময়ে মেয়েদের ঋতুস্রাব, সন্তানধারণ এবং বাচ্চাকে স্তন্যদানের কারনে স্তনে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। যার কারনে স্তনের কিছু যায়গায় ছোট ছোট সিস্ট যা পানিপূর্ন থলের মত হয়। এটা কিন্তু অনেক নারীই অনুভব করতে পারেন। যার ফলে যেটি আসলে ক্যান্সার নয়, ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষনও নয়, এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

দ্বীতিয় : সাধারণত অনেক সময়ে স্তন্যদানকারী মায়েদের স্তনে চাকা ভাব থাকে। এটি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে। যদিও এটি একটি সিস্ট, পানির বদলে স্তনের দুধ জমা হয়ে তৈরি হয়। আমরা চিকিৎসের ভাষায় একে বলি গ্যালাক্টোসিল। অনেক সময় বাচ্চাকে স্তন্য দান করতে করতেই এটি এক সময়ে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু কিছু কিছু সময় এগুলোকে ছোট্ট অপারেশন এর মাধ্যমে সমাধার করতে হয়।

তীতৃয় : বিশেষ করে কিশোরী বা তরুণী মেয়েদের স্তনে এক ধরনের চাকা নিয়ে আসেন। এ চাকা গুলো কিছুটা শক্ত হতে পারে। যদিও ক্যান্সার এ যেমন পাথরের মত শক্ত চাকা অনুভব হয় তেমন ঠিক নয়। এটিকে বলা হয় ব্রেস্ট মাউস বা ব্রেস্টের ইঁদুর। ইঁদুরের মতই এটি এক জায়গায় না থেকে আরেক যায়গায় দৌড়ে চলে যায়। চিকিৎসসকের ভাষায় এটিকে বলে ফাইব্রোএডেনোমা। এটিকেও কিন্ত স্বাভাবিক স্তন পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ধরা হয়। যেখানে স্তনের গ্ল্যান্ড অথবা ফাইব্রাস অংশ বেশি করে তৈরি হয়। যেহেতু এটিকে স্বাভাবিক স্তনের টিস্যু হিসেবে ধরা হয় এজন্য ছোট থাকলে অপারেশন করতে বলা হয় না। আর ক্যান্সার হবার প্রবনতা হিসেবে এটাকে গন্য করা হয়না।

যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো তা আপনি বুঝতে পেরেছেন এবং ক্যান্সার ভেবে আতংকিত না হয়ে বরং দুশ্চিন্তা দূর করুণ। নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করে এবং পরিবর্তন সাথে সাথেই নির্নয় করার সম্ভবআসুন এবার ‘নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করি’ এ বিষয় নিয়ে একটু আলোচনা যাক।

নিজে নিজের স্তন পরীক্ষা করা :
আপনারা সবাই জানেন নিজে নিজের স্তন পরীক্ষা এই ক্যান্সার সবার প্রাথমিক নির্নয় এর জন্যে গুরুত্বপূর্ণ।
কোন বয়সে থেকে করবেন ?
সাধারণত ২০ বছর বয়স থেকে।

কতদিন পর পর করা দরকা?
অন্তত্য প্রতি মাসে একবার। এটি আপনি অভ্যাসে পরিনত করুন।

এট কখন করবেন?
মাসিক শুরু হবার পর, প্রথম ১০ দিন থেকে ১৪ দিনের মধ্যে।

যদি মাসিক না হয় তখন কী করবেন?
ক্যালেন্ডারের পাতায় দাগ দিয়ে রাখুন, যেদিন স্তন পরীক্ষা করবেন সে দিন ( সাধারণত ব্যাথা আছে দরকার নেই, যেদিন কম ব্যথা থাকে সেদিন চেক করবেন)। আবার পরের মাসগুলোয় এই দিনে স্তন পরীক্ষা করুন।

গর্ভবতী বা স্তন্যপানের সময়ও কি স্তন পরীক্ষা করার দরকার?
অবশ্যই করতে হবে, নিশ্চিত ভাবেই করুন। একই পদ্ধতিতে। কারন এই সময়ের ক্যান্সার সাধারণত মিস হওয়ার সম্ভবনা বেশি, যার কারনে বেশির ভাগ খারাপ অবস্থা হয়ে যায়। তাই।

এ ভাবে কত বয়স পর্যন্ত করবেন?
আজীবন করতে হবে, খেয়াল করবেন আপনার স্তনে অস্বাভাবিক নতুন কিছু হয়েছে কিনা। মনে রাখবেন আমরা যত বেশী দিন বেঁচে থাকি তার সঙ্গে ততই আমাদের ক্যান্সারের প্রবনতা বেড়ে যায়। তাই যত বয়স পর্যন্ত বেচে থাকবেন নিজে সচেতন থাকবেন। নিজের খেয়াল রাখবেন। ভাল থাকে। সাবাইকে ধন্যবাদ।

লেখক
ডাঃ লায়লা শিরিন
সহযোগী অধ্যাপক, ক্যান্সার সার্জারী, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল।

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যতœবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। যদি এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

আরোগ্য হোমিও হল এডমিন : এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথিক পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই ওয়েব সাইটটি কে কোন জেলা বা দেশ থেকে দেখছেন “লাইক – কমেন্ট” করে জানিয়ে দিন। যদি ভালো লাগে তবে “শেয়ার” করে আপনার বন্ধুদের জানিয়ে দিন।


এ জাতীয় আরো খবর.......
Design & Developed BY FlameDev