শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:১২ অপরাহ্ন

শিশুর যক্ষাকাশ বা ক্ষয়রোগ

আরোগ্য হোমিও হল / ২১২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশ কালঃ বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২২, ৬:৪৫ পূর্বাহ্ন

যক্ষাকাশ বা ক্ষয়রোগ

পারিবারিক চিকিৎসা থেকে নেওয়া

ডা :এম ভট্রাচার্য্য

এক প্রকার গুটিকা-জীবাণু (Tubercle bacillus) বা উদ্ভিজ্জাণৃ নি:শ্বাসহ ফুসফসু মধ্যে বা খাদ্যসহ পাকস্থলী মধ্যে প্রবেশ করিলে ফুসফুস শীঘ্র শীঘ্র ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ও উহাতে ক্ষত হইতে থাকে, তজন্য ইহার নাম ”ক্ষয়কাশ“। কেবল ফুফফুস কেন, রোগীর যকৃৎ, অন্ত্র, মুত্রাদিসহ নির্গত হয়। মাছি এই পীড়া এক স্থান হইতে অন্য স্থানে বাহিয়া লইয়া যক্ষারোগে উৎপান্ন করে। পিতামাতার এই রোগ থাকিলে যে সন্তানের উহা ছেলের হইবে এমন কথা নহে। কিন্ত পিতামাতার এই রোগ থাকিলে তাহাদের বংশধরদিগের যক্ষ্ণারোগ হইবার খুবই আশঙ্কা। সর্বদা দুষিত বায়ু সেবন, আর্দ্র ও সূর্যালোকশূন্য, বদ্ধবায়ুযুক্ত স্থানে বাস, অনুষ্টিকর দ্রব্য ভোজন, অপ্রচুর আহার, শ্বাসের সহিত ধুলিকানা,পাট বা তুলা প্রভৃতি গুঁড়া শরীওর গ্রহণ, অতিশয় দুশ্চিন্তা, পুন:পুন: সন্তান-প্রসব প্রভৃতি কারণে বা অন্য কোনও রোগে ভুগিয়া শরীর ক্ষীণ ও দুর্বল হইয়া পড়িলে এই রোগসহ আক্রমণ করিতে পারে।

লক্ষণাবলী : এই রোগ প্রায়শ: ধীরে ধীরে আরম্ভ হয় এবং প্রথমেই রোগীর ক্রমবর্ন্ধমান দুর্বলতা ও অস্বিস্তি লক্ষিত হয়। অনতিকাল পরেই রোগীর সহজেই ঠান্ডা লাগিবার প্রবণাত দৃষ্ট হয় এবং তৎসহ শুস্ক কাশি, হৃৎপিণ্ডের দ্রুত স্পন্দন, পরিপাক যন্ত্রের গোলযোগ, আপবাহ বান্ধ্যার সময় শরীরের সামান্য উত্তাপ বৃদ্ধি ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়। ইহার সহিত কখনও কখনও প্লুরিসি ও রক্ত-কাশও থাকিতে পারে। এই রোগে কি প্রকারের লক্ষণ কতদিন ধরিয়া চলিতে থাকিতে পারে। এই রোগে কি প্রকারের লক্ষণ কতদিন ধরিয়া চলিতে থাকিবে, তাহার কোনই স্থিরতা নাই। কোন কোনও ক্ষেত্রে রোগ অতি দ্রুত প্রসার লাভ করিয়া তিন মাসের মধ্যে রোগীর মৃত্যু ঘটাইতে পারে (৫, ৭, ১০ এমন কি ২০ বৎসর পর্যন্ত্য) স্থায়ী হইতে পারে (পুরাতন যক্ষ্মা )। পরবর্ত্তী ক্ষেত্রে কোন কোনও রোগী সময় সময় আপাত: দৃষ্টিতে লক্ষণবিহীন হইয়া সুস্থ-জীবন যাপন করিতে পারে, মোটামুটি ধারণা এই যে, রোগীর অবস্থা প্রতিদিনই তাহার তৎকালীন প্রতিরোধ-শক্তির উপর নির্ভর করে এবং যতটুকু সময় এই শক্তি রোগ জীবাণু অপেক্ষা প্রবল তাকে ততটুকু সময়ই রোগী লক্ষণ যুক্ত থাকে। এই কারণেই লক্ষণযুক্ত যক্ষ্মা রোগগ্রস্ত ব্যাক্তি অতি দীর্ঘকাল যাবৎ লক্ষণযুক্ত না থাকিলে তাহার আরোগ্য সম্ভন্ধে কোনও নিশ্চিত নিন্ধান্ত করা সম্ভব হয় না। এত বিভিন্ন প্রকারের বাহ্যিক ও আব্যন্তরিক অবস্থা এই রোগের উপর প্রভাব বিস্তার করে যে, কোনও এক প্রকারের রোগ-বিবরণ দিয়া সমস্ত রোগীর পরিচয় দেওয়া সম্ভব নহে, তাবে নিন্ম লিখিত লক্ষণগুলি অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে দেখা যায়।

জ্বর : জ্বরই এই রোগের প্রধান লক্ষণ। রোগ আরম্ভ ইহা অপরাহে ও সন্ধ্যায় অতি সামান্যভাবে লক্ষিত হয় এবং এইরুপ অবস্থা বহুদিন চলিতে পারে। সাধারণত: এই সময়ে উত্তাপ ৯৯ ডিগ্রী-১০০ ডিগ্রী বা ১০১ ডিগ্রী পর্যন্ত হয় ও এই রুপ কয়েক ঘন্টা থাকিবার পর জ্বর সম্পুর্ণ বিচ্ছেদ হইয়া যায়। এখানে লক্ষ্য করিবার একটী বিষয় এই যে সামান্য পরিশ্রমেই জ্বর বৃদ্ধি হয়, জ্বরের শেষ অবস্থায় জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি হইয়া ‘হকটিক’ (cavity) আকার ধারণ করে, অর্থাৎ সব্বোচ্চ জ্বর প্রায় ১০৪ ডিগ্রী-১০৫ ডিগ্রী হয় এব সর্ব্বানিন্ম জ্বর ১০০ ডিগ্রী পর্যন্ত হয়।

কাশি : কাশি প্রায় এবং সর্ব্ব রোগরি ক্ষেত্রেই বর্ত্তমান থাকে। প্রথমে ইহা শুস্ক ও কষ্টদায়ক হয়। প্রদাহজনিত শ্লেম্মা-নি:সরণ হইলে, কফ অপেক্ষাকৃত তরল হয়। পরে যখন ফুসফুসের প্রকৃত ক্ষয় প্রাপ্তি হইয়া তথায় গবহ্বরের (cavity) সৃষ্টি হয় তখন প্রচুর পরিমাণে পুঁজ মিশ্রিত গয়ার উঠিতে থাকে। কাশি সাধরণত রাত্রে অথবা প্রাতে নিদ্রাবঙ্গের পর বৃদ্ধিপায়। কাশির সহিত রক্ত উঠিলে ক্ষয়রোগের অকাট্য চিহ্ন বলিয়া ধরিয়া লওয়াই সাধরণ লোকের রীতি। বলা বহুল্য, ইহা সম্পুর্ণ ঠিক নহে, তবে এই রুপ ক্ষেত্রে আলোচ্য রোগের সম্ভাবনাই অধিক। কফে রক্ত মিশ্রিত থাকা সম্বন্ধে রোগের অবস্থাবিশেষের কোনও স্থিরতা নাই। কোন কোনও ক্ষেত্রে ইহাই রোগের প্রথম চিহ্ন হিসাবে লক্ষিত হয়, আবার কখনও বা ইহা রোগের পরিণাম অবস্থায় প্রকাশ পায়।

ক্রমবর্দ্ধমান শীর্ণতা : রোগীর শরীরের উত্তরোত্তর শীর্ণতা প্রাপ্তি এই রোগের এক নির্ভুল চিহ্ন বলিয়া উল্লিখিত হইতে হইযাছে। ইহার সহিত রক্তের লোহিতকণিকা গুলিও ক্রমশ: ধ্বসপ্রাপ্ত হইতে থাকে।

পরিপাক ক্রিয়ার গোলযোগ : বহু ক্ষেত্রেই রোগীর ক্ষুধামান্দা, অজীর্ণ, উদরাময় প্রভৃতি উপসর্গ দেখা যায়।

শ্বাসকষ্ট : এই রোগ লক্ষণ প্রথমে দেখা যায় না, যখন ফুসফুসের অতিরিক্ত ক্ষয়প্রাপ্তির ফলে হাওয়া প্রবেশের স্থানের অভাব ঘটে, তখনই এই লক্ষণ প্রকাশ পায়। ইহা এক বিপজ্জনক ও অশুভ লক্ষণ।

রোগীর আকৃতি : পুরাতন (যক্ষ্মা) রোগাক্রন্ত ব্যক্তির আকৃতিতে কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। রোগী শীর্ণ, রক্তহীন ও দুর্ব্বল হইয়া পড়ে। বক্ষের সম্মুখস্থ পেশীসমুহ লুপ্ত হইয়া বক্ষ: সমতল দেয়ায় ও পঞ্জিরাস্থি সকল পরিস্কারভাবে দেখা যায়। পশ্চাতের স্ক্যাপুলা-অস্থি (scapula) দুইটি অত্যাদিক পেশী-শীণতার ফলে পরিস্ফুট হইয়া পড়ে এবং রোগীর বক্ষ:পঞ্জর অতি কেশ দেখায়।

যক্ষাকাশ বা ক্ষয়রোগের চিকিৎসা :
ব্যাসিলিনাম বা নিউবার্কিউলিনাম 30 বা 200 শক্তি। যক্ষারোগের উৎকৃষ্ট ঔষধ। উক্ত ঔষধদ্বয় পক্ষান্তে ও সাসান্তে উচ্চক্রমে একমাত্রা সেবন বিধি, নিন্মক্রমে বা ঘন ঘন ব্যবস্থা করিলে অনিষ্টের সম্ভবনা।
এই ঔষধ প্রয়োগের কয়েকটি প্রধান লক্ষণ : সকল প্রকার কাশি প্রথমে শুস্ক, পরে তরল, প্রচুর পরিমাণে তরল শ্লেম্মা নির্গমন, সহজেই সর্দি হওয়া, রোগাক্রমণ হইতেই শীঘ্র শীঘ্র শীর্ণকায় হইয়া পড়া, রোগীর যন্ত্রণাদি লক্ষণের নিয়ত পরিবর্ত্তনশীলতা এবং রোগী ফুসফুসের অগ্রভাগে (বিমেষত: বাম ফুসফুসে গুটিকা সঞ্চার।

ক্যাল্কেরিয়া ফস 12x বিচুর্ণ 3০ শক্তি : রক্তহীনতা, রাত্রিতে প্রচুর ঘর্ম্ম ও তৎসহ হস্ত-পদাদি শীতল, অল্প জ্বরসহ উদরাময়, গলা শুকাইয়া উঠা, স্বরভঙ্গ। টিউবার্কিউলিনামের পর ক্যাল্কেরিযা ফস ভাল কাজ করে।

ক্যাল্কেরিয়া কার্ব্ব 3০ শক্তি : অগ্নিমান্দ্য, অম্ল -উদগার, তৈল, ঘৃত বা মিষ্টদ্রব্য ভোজনের পর রাত্রিকালে কাশির বৃদ্ধি, কাশিতে কাশিতে কঠিন হরিদ্রাভ সবুজবর্ণ, পুঁজময় শ্লেম্মা নির্গমন, দুর্ব্বলতা, ঘর্ম্ম রক্তস্রাব, গ্রন্থি-স্ফীতি, বক্ষে স্পর্শাসহ বেদনা। স্থলকায় এবং পদদ্বয় নিয়ত ঠান্ডা রোগী পক্ষে বিশেষ উপযোগী।

*আক্রান্ত ফুসফুস হইত রোগজীজ বা বিষ লইয়া ইংরেজ ডা: বার্ণেট “ব্যাসিলিনাম বা নিউবার্কিউলিনাম” প্রস্তুত করান- ডা : হিদ (Heath) বার্ণেটের নির্দেমত ঔষধ প্রস্তুত করিয়া দেন। জীবণুতত্ত্ববিদ জার্মান ডা: কোচ (Heath) আক্রান্ত ফুসফুস হইতে জীবণু সংগ্রক করিয়া ঐ জীবণু বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণ ও সংবর্দ্ধন (ulture) করিয়া “টিউবার্কিউলিনাম” (Tuberculinum Koehii) ) প্রস্তুত করেন

ক্যালকেরিয়া আয়োড ৩x : ক্যাল্কেরিয়া কার্ব্ব লক্ষণযুক্ত, কিন্ত রোগী ক্ষীণকায় (বিশষেত: অম্লের পীড়া থাকিলে) গ্রন্থি-স্ফীতি।

ক্যাক্লেরিয়া আর্সেনিক 3x ফুসফুস সম্বন্ধীয় (Pulmonary) পুরাতন যক্ষ্মা , বিশেষত; রক্তস্রাব উপসর্গে।
জ্যাবোর‌্যাণ্ডি 3x : প্রচুর ঘর্ম্ম উপসর্গে।

ঘাইড্র্যাষ্টিস Q : (তিন ফোঁটা মাত্রায় প্রত্যহ তিনবার সেব্য)। আহারে অরুটি ভিন্ন রোগের অন্য কোন বিশেষ উপসর্গ লক্ষিত হয় না। পেট খালি বা শূণ্য মনে হয়, ক্ষুধামান্দ্য, দুর্ব্বলতা। ডা: বার্ণেট বলেন, ব্যাসিলিনাম সেবনে রোগী রোগমুক্ত হইলে অথবা রোগ আরোগ্যন্মুখ হইলে হাইড্র্যোষ্টিস Q প্রতি মাত্রায় ৩-৫ ফোঁটা দিনে ২/৩ বার সেবনে রোগী শীঘ্র সুস্থ ও পুষ্ট হইয়া উঠে।

হ্যামাসেলিস Q : কৃষ্ণবর্ণ বা চাপ চাপ রক্তস্রাব।
অ্যাকালিফা-ইণ্ডিকা 1x : শুস্ক কাশির পারই রক্তাক্ত থুথু উঠা।

আর্সেনিক-আয়োড ৩x – ৬x : বিচূর্ণ- রোগে প্রায় সকাল অবস্থাতেই ইহা উপযোগী। সর্দি নি:সরণ গভীর অবসন্নতা, দ্রুত নাড়ী, প্রত্যহ জ্বর ও নৈশ-ঘর্ম্ম, অতীব শীর্ণতা, রক্তস্বপ্লতা, রক্তদোষ, বিশেষত: তালুমুল প্রদাহ বা ইনফ্লুয়েঞ্জার পর যক্ষ্মা রোগ ঘটিলে এই ঔষধ হিতকর। (আহারের পর এই ঔষধ বিনা জলে সেবন বিধেয়)। ঔষধ সেবনের পরও জলপান অনুচিত।

অ্যাব্রোটেনাম 1x : (পাঁচ ফোঁটা মাত্রায় প্রতি দুই ঘন্টা অন্তর)। ক্ষয়কাশসহ অন্ত্রাবরক প্রদাহ (Preitonitis) ঘটিলে (বিশেষত: নিন্ম লিখিত লক্ষণে :- নিন্ম শাখাদ্বয়ের অতীব শীর্ণতা সহ পেট সর্ব্বদা ফাঁপিয়া থাকা, মুখমণ্ডল কুঞ্চিত, শীতল শুস্ক ও পাণ্ড বর্ণ, রোগীর মনে হয় যেন তাহার উদরটি পরিয়া রহিয়াছে Dr, Jones)।

বেলেডোনা 3x-6 শক্তি : শুস্ক কাশি, বাহিরে চাপ দিলে স্বরনলীতে বেদনা, স্বরভঙ্গ, অপরাহ্নে গাত্রতাপ বৃদ্ধি, অনেক্ষণ ধরিয়া কাশিতে কাশিতে রক্ত মিশ্রিত শ্লেমা নির্গমন। সন্ধ্যা বা রাত্রিতে শয়ন করিবার সময় বক্ষ:স্থলে যাত্রনাসহ কাশির বৃদ্ধি।

আয়োডিয়াম 6x-৬ শক্তি :  ক্ষয়কাশির সহিত গ্রস্থিও স্ফীতি, উদরে বেদনা ও উদরাময়, গাত্রত্বক শুস্ক ও খসখসে, মুখমণ্ডল লালবর্ন, ক্ষুধার আধিক্য, তৈলাক্ত ও চর্ব্বিযুক্ত খাদ্য এবং দুগন্ধদি পরিপাকে অসামথ্য, শীঘ্র শীঘ্র শরীরে ক্ষয় হওয়া।

ফস্ফোরাস 3-3০ শক্তি: (দিবসে একমাত্রা সেব্য)- মৃদ্যু ও দ্রুত নাড়ী, শুস্ক ও উত্তপ্ত চর্ম্ম, বক্ষে বেদনা সহ শুস্ক কাশি, ফুসফুসে ক্ষত বশত: ঈষৎ হরিদ্রাবর্ণের দুগন্ধ শ্লেম্মা নি:সরণ। প্রায়ই ঘর্ম্ম ও উদরাময়, অক্ষুধা, ক্ষণদেহ, অত্যান্ত দুর্ব্বলতা, থুথুসহ রক্ত নি:সরণ, সন্ধ্যাকালে জ্বর ও যন্ত্রার বৃদ্ধি। স্বভাবগত: লম্বা, শীর্ণকায় ও অপ্রশস্ত

বক্ষ: বিশিষ্ট ব্যাক্তিগণ এবং তরুণ-তরুণীগণ ও যাহারা শীঘ্র শীঘ্য বাড়িয়া উঠে তাহাদেও পীড়ায় ইহা সমধিক উপযোগী।

কেলি কার্ব্ব 3 – 6 শক্তি : নিউমোনিয়া বা প্লুরিসির পরবর্ত্তী যক্ষ্মা – কাশি ও শুস্ক ও কষ্টদায়ক, কাশিতে কাশিতে গোলাকার শ্লোম্মাখণ্ড, সকল নির্গত হয়, এই শ্লেম্মা পূঁজের ন্যায়, সময় সময় ইহার সহিত রক্ত থাকে। ভোর তিনটা হইতে কাশির বৃদ্ধি, বক্ষে চাপ ও ভারবোধ, স্বরভঙ্গ। অনেক সময় চোখের উপর-পাতা ফুলিতে দেখা যায় ও বুকে পিঠে ব্যাথা হয়। রোগী ঋতু-পরিবর্ত্তনে সুস্থ বা অসুস্থ বোধ করে। ঠান্ডাতে বাদলার দিনে রোগ লক্ষণ বাড়ে, গরমে ভাল থাকে। দক্ষিণ ফুসফুসের নিন্মভাগ আক্রান্ত হইলে এই ঔষধ বিশেষ কার্য্যকরী।

ব্রায়োনিয়া 3 x-6 শক্তি : শুস্ক কাশি, কাশিতে কাশিতে যেন বুক ফাটিয়া যাইবে এইরুপ অনুভব, দুই পার্শ্বে সুঁচফোটানর ন্যায় বেদনা বোধ, শ্বাসকষ্ট, মস্তকের সম্মুখে বা পশ্চাদ্ভাগে ব্যথা।

ফেরাম মেট 3 বিচর্ণ 6 শক্তি: ফুসফুস হইতে রক্তস্রাব, হস্ত-পদ স্ফীত উদরাময়, রক্তস্বপ্লতা, খুসখুসে কাশি ও বক্ষ:স্থলে যাতনাসহ রক্ত নির্গমন।

ড্রসেরা 1x -3 শক্তি : বিষম কাশি, কাশিতে কাশিতে রক্ত নি:সরণ। বুকে কাশি-জনিত বেদনা।

পালসেটিলা ৬ শক্তি : রোগের প্রথম অবস্থায় যখন অগ্নিমান্দ্য হইয়া তৈলাক্ত ও চর্ব্বিযুক্ত পদার্থ বা কডলিভার অয়েল পরিপাক হয় না রাত্রিকালে কাশি ও শ্লেম্মার বৃদ্ধি, অধিক পরিমাণে গাঢ় পীতবর্ণ রিক্ত স্বাদবিশিষ্ট শ্লেম্মা নির্গমন।

নাক্স জুগ্ল্যান্স Q– 3x শক্তি : কাশি, স্বভঙ্গ, বুকে চাপবোধ, পেট ফাঁপা বা শক্ত হওয়া, উদরাময়, অজীর্ণ, কুঁচকি বা বগলের বীচি আওড়ান বা টাটান অথবা বীচিতে পূঁজ সঞ্চার।

লাইকোপডিয়াম 12-3০ শক্তি : আমশয় ও উদরে বেদনা, অম্ল ফুলিয়া মলবোধ, অগ্নিমান্দ্য, রক্তমিশ্রিত লবণাস্বাদবিশিষ্ট শ্লেম্মা নির্গমন, খুসখুসে কাশি, কাশিতে কাশিতে অত্যান্ত শ্রান্তি, ফুসফুস-প্রদাহ, দুর্গন্ধ উদগার, সামান্য আহারে উদর-স্ফীতি, পেট সর্ব্বদা ভুটভাট করা। অপরাহ ৪টা হইতে রাত্রি ৮টার মধ্যে জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গাদির বৃদ্ধি।

আর্সেনিক 3x -3০ শক্তি : রোগের সকল অবস্থাতেই (বিশেষত: শেষবস্থায় উদরাময়ে) ইহা প্রয়োগ করা হয়।

হিপার সালফার 3-3০ শক্তি : স্বরভঙ্গ, সরল কাশি, (শুস্ক শীতল বাতাসে বৃদ্ধি), কাশিতে কাশিতে শ্লেম্মা, রক্ত বা পূঁজ স্রাব, শয়ন করিলে শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট, গণ্ড মালা ধাতুবিশিষ্ট যুবক-যবতীদের পক্ষে এই ঔষধটি সমাধিক উপযোগী।

ম্যালেরিয়া অফিসিনেলিস 3x শক্তি : Dr, Bowen বলেন, যেখানে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব অথবা যেখানকার জলাভুমিতে প্রায়ই গাছ পচে, তথাকার যক্ষা রোগীদিগের পক্ষে এই ঔষধটি ফলপ্রদ।

নেট্রাম আস 3 বিচুর্ণ : (প্রতি মাত্রায় ৩ গ্রেণ করিয়া প্রত্যহ তিনবার সেব্য)। পীড়ার বৃদ্ধি অবস্থায় যখন প্রচুর সজুভাব শ্লেম্মা নি:সৃত হইতে থাকে তখন এই ঔষধ প্রযোগের প্রায়ই উপকার দর্শে। রোগের কিছু উপশম হইবামাত্রই এই ঔষধ সেবনে বদ্ধ করা বিধেয়।

থ্র্যাস্পি বার্সা 3x শক্তি : কাশি সহ প্রচুর পরিমাণে উজ্জল লালবর্ণের রক্ত নির্গমন।

মিলিফোলিয়াম 1x 3০ শক্তি : সামান্য কাশি সহ গাঁজলা গঁজলা রক্ত উঠিলে।

সালফার 3০ শক্তি : মাঝে মাঝে বিমেষত: পুরাতন রোগে উপকারী।

নাইট্রিক এ্যাসিড : উজ্জল লালবর্ণের রক্তস্রাব।

ইপিকাক শক্তি 3x শক্তি : কাশি (হাঁপানির মত) বমন, বা বমনেচ্ছ, ঝলকে ঝলকে উজ্জল লালবর্ণের রক্ত নির্গমন।

সিলিকা 3০ শক্তি : ক্ষত অবস্থায় প্রচুর নৈশ-ঘর্ম্ম, পুঁজবৎ প্রচুর শ্লেম্মা নি:সরণ।

অলিভ-অয়েল বা জলপাই-তৈল : প্রতি মাতায় অর্দ্ধ আউন্স হইতে এক আউন্স পর্য্যন্ত প্রতি দুই ঘন্টা অন্তর এই তৈল সেবনে যক্ষা রোগীর শরীরের ওজন বাড়ে। অন্য ঔষধ সেবনকালেও ইহা অনায়ার্সে ব্যবহার করা চলে, হই সেবিত ঔষধের ক্রিয়ার কোনও ব্যাঘাত ঘটায় না। অল্প পরিমাণে লবনসহ এই তৈল সেবনে পরিপাক ক্রিয়ার সহায়তা করে।

পেঁয়াজ : অনেক চিকিৎসক বলেন পেঁয়াজের রস বা কাঁচা পেঁয়াজ বলবণসহ খাইলে রোগী নিরাময় হইতে পারে। যে সমস্ত জীবাণু মানবদেহ আক্রমণ করিয়া থাকে, পেঁয়াজ তাহাদের বিনাশ সাধন করে। রসুন কাটিয়া উহার ঘ্রণ লইলেও নাকি যক্ষারোগ আরগ্য হয়।

যক্ষ্মা রোগ হইয়াছে সন্দহ ইলেই (বা রোগের সুচনা অবধি শেষ পর্য্যন্ত সকল অবস্থাতেই) ফেরাম ফস (জ্বরসহ রক্ত উঠা) ও আর্স আয়োড 3x বিচুর্ণ (জ্বর ও গ্রন্থি-স্ফীতি)।

জ্বরাদিকারে : ব্যাপ্টি, শ্যাঙ্গু, ফেরাম ফস, চায়না, কিনি-আর্স একিনেসিয়া, পাইরো।

ধাতু-বিকৃতিতে : আর্স আয়োড, সালফ, আর্স, ক্যাক্লেরিয়া আয়োড, মার্ক আয়োড।

প্রচুর ঘর্ম্মে : ক্যাল্কেরিয়া কার্ব্ব, জ্যাবোর‌্যাণ্ডি, আগারি, এ্যাসিড ফস, সিলিকা।

পাকস্থলীর গোলযোগ লক্ষণে : নাক্স, পালস অ্যাভেনা শ্যাট (অক্ষুধা), জেন্সিয়ানা-লুটিয়া (আদৌ ক্ষুধার উদ্রেক না হওয়া)।

উদরাময়ে : আর্স আয়োড, কিনি-আর্স, অ্যাসিড ফস।

রক্ত উঠা লক্ষণে : জিরেনিয়াম Q অ্যাকলিফা Q, মিলি Q, ইপিকাক, ট্রিলিয়াম, ফস্ফো, হ্যামা, ফেরাম-অ্যাপোসাই, আর্স আয়োড, স্যাঙ্গ। কাশির উপসর্গে : ফস্ফো, বেল, ড্রসে, ব্রাইয়ো, হায়োসা, কোনায়াম, ষ্ট্যানাম, অ্যান্টিম টার্ট, কেলি বাই, কেলি কার্ব্ব।

শ্বাসকষ্ট উপসর্গে : আর্স, অ্যান্টিম টার্ট, ষ্টিকনি, নাইট্রি অ্যাসি।
আয়োডিয়াম, ক্যাল্কে কার্ব্ব 3 বিচুর্ণ, মার্ক প্রটো-আয়োড, আর্স আয়োড, 3 বা 3০ ফস্ফো 3০ ক্যাল্কে ফস 12, টিউবার্কিউলিনাম (উচ্চক্রম), ক্যাল্কেরিযা কার্ব্ব 3, পালস 3 বা 3০, থাইরো, ফেরাম মেট 3০, সালফার 3০ বা 1০০০, হাইড্র্যোষ্টিস, নাক্স ভোম, গ্যালিক অ্যাসিড, অ্যাসিড ফস, অ্যাসিড মিউর, ইরিজিরণ, ইপিকাক, জিরোনিয়াম ও অ্যাসিড ন্যাট্রিক- এই ২১টি যক্ষারোগের প্রধান ঔষধ।

আরোগ্য হোমিও হল এডমিন : এ ওয়েব সাইটের মুল উদ্দেশ্যে হচ্ছে স্বাস্থ্য সম্পের্ক কিছু দান করা বা তুলে ধরা। সাধারণ মনুষের উপকার হবে। বিশেষ করে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও ছাত্ররা উপকৃত হবেন। এ ওয়েব সাইটে থাকছে পুরুষ স্বাস্থ্য বা যৌনস্বাস্থ্য, গাইনি স্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, মাদার টিংচার, সিরাপ, বম্বিনেশন ঔষধ, বাইকেমিক ঔষধ, হোমিওপ্যাথিক বই, ইউনানি, হামদর্দ, হারবাল, ভেজষ, স্বাস্থ্য কথা ইত্যাদি। এই ওয়েব সাইটটি কে কোন জেলা বা দেশ থেকে দেখছেন “লাইক – কমেন্ট” করে জানিয়ে দিন। যদি ভালো লাগে তবে “শেয়ার” করে আপনার বন্ধুদের জানিয়ে দিন।


এ জাতীয় আরো খবর.......
Design & Developed BY FlameDev