শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

বাধক কী? কেন হয় ও ঘরোয়া সমাধান

আরোগ্য হোমিও হল / ১১২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশ কালঃ সোমবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৫:৫১ অপরাহ্ন

বাধক কী? কেন হয় ও ঘরোয়া সমাধান

আরোগ্য হোমিও হল এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা এখানে আলোচনা করবো মেয়েদের বাধক মহিলার একটি কষ্টের বেদনাদায়ক যন্ত্রণা। যা মেয়েদের মাসিক হওয়ার অবস্থায় হয়ে থাকে। বাধক কি, বাধক কেন হয়, ঘোরোয়া সমাধান কি তা নিয়ে আজকের জনবো, এটা সবার জানা জরুরী! তো আর কথা নয় – সরাসরি মূল আলোচনায়।

ৰাধক কি বাধক কেন হয় বিস্তারিত আলোচনা :
আমাদের মেয়েদের মাসিকের অবস্থায় যেই ব্যথা বা যন্ত্রণা হয় তাকে আমরা বাধক বলে থাকি। বাধকের ব্যথা বা যন্ত্রণা খুব কষ্টদায়ক একটা ব্যথা। এ ব্যথা প্রত্যেক নারী একবার না একবার ভুগেন। তো চলুন বন্ধুরা জেনে নেওয়া যাক মহিলাদের মাসিক হওয়া কালীন একটি ব্যথা যন্ত্রণা সম্পর্কে। বাধক কাটানোর উপায় কি এ সম্পর্কে জেনে নিব আজকের পোস্টটিতে।

ভূমিকা : প্রতিবার নারীর মাসিক ঋতুস্রাব হইবার এক বা দুই দিন পূর্বে থেকে তলপেটে তীব্র আক্ষেপিক বেদনা ও সেক্রাম প্রদেশে টাটানি যন্ত্রণা করে। স্নায়ুশুলের ন্যায় সেই বেদনা উরু বাহিয়া বিস্তৃত হয়। তৎসহ বিবমিষা, বমন, দুর্বলতা, মাথাঘোরা, মাথাব্যথা, পুনঃমুত্রবেগ ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়। মানসিক উত্তেজনা অথবা অবসাদহেতু বা জরায়ুর সাব-ইনভলিউসান প্রসবের পর জরায়ুর আয়তন স্বাভাবিক না হলে জরায়ুতে অর্বুদ, স্যালপিঞ্জাইটিস প্রভৃতি জরায়ু প্রায় সর্বক্ষণই রক্তাধিক্য থাকে।
মাসিক বা ঋতুকালে রক্তাধিক্য বর্ধিত হইয়া ঋতুণ্ডল উপস্থিত হয় । ঋতু প্রকাশ পাইবার ৪/৫ দিন পূর্ব হইতেই বেদনা শুরু হয় এবং তৎসহ মস্তকে রক্তাধিক্য, প্যালপিটেসান, জ্বর প্রভৃতি প্রকাশ পায়। অধিক রক্তস্রাব হইতে আরম্ভ হইলে বেদনা ও অন্যান্য সমস্যা দূর হয় । কখনো কখনো জরায়ু, ওভারি প্রভৃতির প্রদাহজনিত বেদনা থাকে এবং ঋতুকালে তাহা সমধিক বৃদ্ধি পাইয়া অশেষে যন্ত্রণাদায়ক হয়। ঋতুস্রাব অন্তেও তাহা সম্পূর্ণ দূরীভূত হয় না।

ঔষধ সম্পর্কে আরও পড়ুন – মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তস্রাবে হোমিওপ্যাথিক ও বায়োকেমিক ঔষধ

জরায়ু সঙ্কোচনে ফলে রক্ত বহিঃগমনকালে প্রসববেদনার ন্যায় নিদারুণ যন্ত্রণা ও অত্যধিক রক্তস্রাব হয় । পিণ্ডগুলি বের হইলে বেদনার উপশম হয়, কিন্তু পুনরায় ঐরূপ পিণ্ড-সমূহ আবার জন্মাইতে থাকে এবং পুনরায় ঔরূপ বেদনা ও অত্যধিক রক্তস্রাবসহ পিণ্ডগুলো বের হলে যন্ত্রণার উপশম হয়। এইরূপ ভাবে পুনঃ পুনঃ সংঘটিত হইতে থাকে । ক্ষেত্রবিশেষে জরায়ু-ঝিল্লি বা এন্ডোমেট্রিয়ামের অধিক বা সমগ্র অংশ বৃহৎ পর্দার ন্যায় বা পিণ্ডাকারে নির্গত হয় । ইহাকেই মেম্বেনাস ডিসমেনোরিয়া বলে ।
এরূপ ক্ষেত্রেও বেদনা ও অত্যধিক রক্তস্রাবসহ পর্দাগুলি নির্গত হলে যন্ত্রণার উপশম হয়, কিন্তু আবার পুনঃ পুনঃ এইরূপ হইতে থাকে । আবার কখনো কখনো বেদনার প্রকৃতি, স্রাবের আধিক্য ও পর্দার আকৃতি প্রভৃতি দ্বারা ইহাকে গর্ভস্রাব বলিয়া ভ্রম হয় ৷ বাধক নারী সারা মাসই প্রায় হেসে খেলে কাটানোর পর নির্দিষ্ট চার পাঁচটি দিন প্রায় প্রত্যেক মহিলার কাছেই যেন বিভীষিকাময়, অস্বস্তি বা শরীর দুর্বলের জায়গাটা বাদ দিলেও ব্যথা বাদ দেওয়া যায় না। কোমর, তলপেটে অসহ্য ব্যথাতেই কাহিল হয়ে পড়ে বেশির ভাগ মহিলা। এই ব্যথা বাড়তে বাড়তে সারা শরীরের ছড়িয়ে পড়ে। হাত, পা, পিঠ সহ সমস্ত শরীরটাই অভিশপ্ত মনে হয় । এই কষ্ট যাঁর হয় তিনি ছাড়াও আর কেউ বোঝেন না। ১২ বছরের কিশোরী হোক কিংবা ৪২ মধ্যবয়স্কা। পিরিয়ড বা মাসিকের যন্ত্রণা সইতে হয় অনেক নারীকে।

ঔষধ সম্পর্কে আরও পড়ুন –  এইচ আর – ২১ (মাসিক সমস্যায় কার্যকর)

বাধক কেন হয়?
এবার আমরা জানবো নিব বাধক কেন হয়। বন্ধ্যাত্ব নারী-পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। বাংলাদেশে মহিলাদেরই এজন্য নিগ্রহের শিকার হতে হয় বেশি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইহার অন্যতম কারণ হলো – জরায়ু অথবা জরায়ু- -গ্রীবা মধ্যে অর্বুদজনিত কারনেও এই সমস্যা হইতে পারে । সাধারণত: জরায়ু মধ্যে রক্ত ধীরে ধীরে নিঃসৃত হইয়া জমাট বাঁধে ও ফাইব্রোলাইসিন প্রতিক্রিয়ায় তাহা পুনরায় দ্রবীভূত হয়ে সাবসহ নির্গত হয়। রজঃস্রাবের রক্ত জমাট হওয়ার জন্য দায়ী করা যায় না। কিন্তু জরায়ু মধ্যে অতি দ্রুত ও অত্যধিক পরিমাণে স্রাব হইলে অথবা উপরোক্ত কারণে স্বাভাবিক ঋতুস্রাবে বাধা ঘটিলে রক্ত জমাট বাঁধিয়া জরায়ু পথ ও জরায়ু-মুখের তুলনায় বৃহৎ রক্ত-পিÐে উদ্ভব হয় । জরায়ু সঙ্কোচনে রক্ত¯্রাব বহিঃগমনকালে প্রসববেদনার ন্যায় নিদারুণ যন্ত্রণা ও অত্যধিক পরিমাণে স্রাব হয় । পিণ্ডগুলি বের হইলেই বেদনার উপশম হয়, কিন্তু পুনরায় আবার ঐরূপ পিণ্ড-সমূহ জন্মাইতে থাকে এবং পুনরায় উক্তরূপ যন্ত্রণা ও অত্যধিক রক্তস্রাবসহ পিণ্ডগুলো বহির্গত হইয়া যন্ত্রণার উপশম হয় । এইরূপ ভাবে পুনঃ পুনঃ সংঘটিত হইতে থাকে । জরায়ু-ঝিল্লি বা এন্ডোমেট্রিয়ামের অধিক অথবা সমগ্র অংশ বৃহৎ পর্দার ন্যায় বা পিণ্ডাকারে বের হয় । ইহাকে মেম্বেনাস ডিসমেনোরিয়া বলে। বাধক কেন হয় এরূপ ক্ষেত্রেও উপরোক্তরূপ বেদনা ও অত্যধিক রক্তস্রাবসহ পর্দাগুলি নির্গত হলে যন্ত্রণার উপশম হয়, কিন্তু পুনঃ পুনঃ এইরূপ হইতে থাকে । আবার কখনো কখনো বেদনার প্রকৃতি, স্রাবের আধিক্য ও পর্দার আকৃতি প্রভৃতি দ্বারা ইহাকে গর্ভস্রাব বলিয়া ভ্রম হয় ।

ঔষধ সম্পর্কে আরও পড়ুন –  শ্বেতপ্রদর বা সাদাস্রাবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

বাধক হলে কি কি সমস্যা হয় :
এবার আমরা জানবো বাধক হলে কি হয়। মস্তিষ্কের অংশ হাইপোথ্যালামাস বলা হয় যা মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। সাধারণত হাইপোথ্যালামাস পিটুইটারি গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে। এলএইচ এবং এফএসএফে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের উৎপাদনকে প্রভাবিত করে। এই হরমোনগুলি গর্ভাবস্থার আস্তরণের চক্রের পরিবর্তনগুলি নিয়ন্ত্রণ করে। এটা ঋতুস্রাব অন্তর্ভুক্ত একটি। নারীর নিয়মিত মাসিক চক্র হিপোর্টামমাস, পিটুইটারি গ্রন্থি, ডিম্বাশয়ে এবং গর্ভাভ সঠিকভাবে কাজ করা উচিত। তার জরায়ু ও যোনিতে অবশ্যই একটি স্বাভাবিক শারীরস্থান থাকতে হবে। প্রাথমিক আমেনারিয়া যখন একটি নারীর তার প্রথম মাসিক বা ঋতু¯্রাব না ১৫ বা ১৬ বছর বয়স ছিল না। এই অবস্থা বিলম্বিত বলা হয়। এটা বেশিরভাগ সময় দেরী বয়স্কদের কারণে এটি খুব পাতলা অথবা খুব ক্রীড়াবিদ কিশোরী মহিলার মোটামুটি সাধারণ। এই যুবতী নারীদের সাধারণত ওজন সম্মত হয়। শরীরের চর্বিযুক্ত স্বাভাবিক বয়ঃসন্ধিকালের সাথে তাদের দেহের কোন সম্পর্ক নেই। শরীরের চর্বি বৃদ্ধি এই ঋতু শুরুতে ট্রিগার। অন্য নারীদের মধ্যে, ঋতুস্রাবের বিলম্ব একটি জেনেটিক ডিসর্ডার হতে পারে, বা এটি অস্বাভাবিক মহিলা প্রজনন অঙ্গ থেকে হতে পারে।

বাধক হলে কি হয় তা আমরা জেনে নেওয়া যাক : বাধক হলে কি হয় তা আমরা জেনে নিবো। পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব, জরায়ু ও ডিম্বকোষের পীড়া, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি কারণে এ রোগ হয়। ঋতু স্রাবকালে তলপেটে, কোমরে ও শির দাঁড়ায় অসহ্য যন্ত্রণা করে। মাথা যন্ত্রণা, বুক ধড়ফড় করা প্রভৃতি প্রধান লক্ষণ দেখা দেয়।

ঔষধ সম্পর্কে আরও পড়ুন –  কেন্ট ০২ (শূলবেদনা রোগে কার্যকর)

বাধক কাটানোর ঘরোয়া সমাধান :
এবার আমরা জানবো বাধক কাটানোর ঘোরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে। খুব বেশি পরিশ্রম করা, পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব, জরায়ু বা ডিম্বকোষের পীড়া, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। ঋতুস্রাবকালীন তলপেটে ব্যথা, কোমরে ও শির দাঁড়ায় অসহ্য বেদনা, বুক ধড়ফড় করা, মাথা যন্ত্রণা প্রভৃতি প্রধান লক্ষণ দেখা দেয়।

অ্যালোভেরা : আমাদের দেশে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী নামে বেশি পরিচিত। অ্যালোভেরা শাঁস রূপচর্চার পাশাপাশি মাসিক নিয়মিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অ্যালোভেরা হরমোন রেগুলেশন-এ সাহায্য করে। ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য প্রতিদিন সকালে খালি পেটে তাজা অ্যালোভেরা পাতার রস সামান্য মধুর সাথে মিশিয়ে খান। তবে পিরিয়ড বা মাসিক চলাকালীন না খাওয়াই ভালো। রক্তে ইনসুলিন ও সুগার-এর মাত্রার তারতম্য কারণে পিরিয়ড বা মাসিক অনিয়মিত হয়ে থাকে।

ঔষধ সম্পর্কে আরও পড়ুন –   এন – ১০ (অনিয়মিত সাসিকের ড্রপস)

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার : অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার-এর মাধ্যমে আপনি নিজেই এর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে ২ চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে প্রতিদিন খাবার খাওয়ার আগে খেতে হবে। আপনার মাসিক বা পিরিয়ড সাইকেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ওলটকম্বল মুলের ছাল : ওলটকম্বল মুলের ছাল চূর্ণ ৪ গ্রাম ও ৪টি গোলমরিচ একত্রে বেটে খেতে হবে। ঋতু স্রাবের প্রথম দিন থেকে প্রতিদিন সকালে পর পর ৭ দিন খেতে হবে। কুসুম কুসুম গরম পানি পান করা এবং গরম পানির তল পেটে সেঁক দেওয়া উপকারী। বাধক হলে কি হয় তা আমরা জানলাম।

কাঁচা পেপে : কাঁচা পেপে পিরিয়ড রেগুলেশন-এ সাহায্য করে। এটি জরায়ুর মাসল ফাইবার কন্ট্রাকশন-এ সাহায্য করে। পর পর কয়েক মাস নিয়মিত কাঁচা পেপের রস খেলে মাসিক বা পিরিয়ড নিয়মিত হয়, তবে মনে রাখবেন পিরিয়ড চলাকালীন কাঁচা পেপে না খাওয়াই ভালো। মাসিক বা পিরিয়ড নিয়মিত করা ছাড়াও কাঁচা পেপে খাবার হজমে সাহায্য করে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং ত্বক মসৃণ রাখতে সাহায্য করে।

জিরা : মাসিক নিয়মিত করতে জিরা আনেক সাহায্য করে। জিরার কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এক গøাস পানিতে ২ চা চামচ জিরা সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। তার পর সেইগুলো পানিসহ খেয়ে নিন।

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যতœবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। যদি এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

আরোগ্য হোমিও হল এডমিন  : এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথিক পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন।  এই ওয়েব সাইটটি কে কোন জেলা বা দেশ থেকে দেখছেন “লাইক – কমেন্ট” করে জানিয়ে দিন। যদি ভালো লাগে তবে “শেয়ার” করে আপনার বন্ধুদের জানিয়ে দিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।


এ জাতীয় আরো খবর.......
Design & Developed BY FlameDev