সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০১:২৮ অপরাহ্ন

জরায়ু সংক্রমণের ঘরোয়া সমাধান

আরোগ্য হোমিও হল / ১৭৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশ কালঃ বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৬:০০ অপরাহ্ন
অনিয়মিত রক্তস্রাব কী কেন হয় কী করবেন

জরায়ুতে ভাইরাস সংক্রমণের ঘরোয়া সমাধান
আরোগ্য হোমিও হল এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা এখানে আলোচনা করবো জরায়ু ভাইরাস সংক্রমণের ঘরোয়া সমাধান নিয়ে আজকে জনবো,  বর্তমানে দেশে চিকিৎসা বিজ্ঞান খুব উন্নত। তবে চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি আপনি কিছু ঘরোয়া প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। চলুন, দেখে যাক কি উপায়ে আপনি ঘরে বসেই জরায়ুতে সংক্রমণের মাত্রা হ্রাস করা যায় তা নিয়ে আজকে জানবো।

(১) দই ব্যবহার : দইয়ে Lactobacillus acidophilus নামে একধরনের ভাল ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। যেখানে খুব চুলকানি হচ্ছে অথবা সংক্রমণের প্রভাব পড়েছে সে সব জায়গায় দুই লাগতে পারেন। যেমন- যৌনাঙ্গেও দই লাগাতে পারেন। দিনে দু’বার লাগান। ঘণ্টা দুই রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার শরীরকে যেকোনো ধরনের ইনফেকশন থেকে প্রতিরোধ করবে।

(২) নারকেল তেল : নারকেল তেলে অ্যান্টিফানগাল উপকরণ থাকে যা ছত্রাককে ধরাশায়ী করতে অত্যান্ত কার্যকরী। সংক্রমণ এলাকায় মনে রাখবেন (যৌনাঙ্গের ভিতরে লাগাবেন না) ভালভাবে নারকেল তেল লাগান। দিনে ২ থেকে ৩ বার লাগালে দ্রুত উপকার পাবেন। আবার সঙ্গে একটু দারুচিনি তেল মিশিয়ে নিলে সংক্রমণ ছড়ানোর আর ভয় থাকবে না।

(৩) অ্যাপল সিডার ভিনিগার : কুসুম কুসুম গরম জলের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ অ্যাপল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে দিনে দু’বার করে সপ্তাহ খানেক খান। সাদা ভিনিগার অথবা অ্যাপল সিডার ভিনিগার জলে মিশিয়ে সংক্রমণের জায়গায়ও লাগাতে পারেন। এতে উপকার পাবেন।

(৪) রসুন : অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাংগাল এবং ঘরোয়া অ্যান্টিবায়োটিক হিসাবে রসুনের জুড়ি নেই। প্রাচীন কাল থেকে এটি ব্যবহার হয়ে আসছে। কয়েক কোয়া রসুন নিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। যেসব জায়গায় ফুসকুড়ি হয়েছে অথবা জ্বলা করছে ঐ স্থান গুলোতে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখুন। এর পাশাপাশি প্রতিদিন এক কোয়া করে রসুন খেতে পারেন। ছত্রাক নিরাময়ে এটি অনেক উপকার পাবেন।

পোশাক ব্যবহার : যতটা সম্ভব ঢিলেঢালা পোশাক পড়া উচিত। আর সংক্রমণের জায়গাটি সবসময় পরিষ্কার রাখবেন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করবেন। দেখবেন দ্রুত সেরে উঠছেন ইনশা’আল্লাহ।

ঔষধ সম্পর্কে আরও পড়ুন –  র‌্যাক্স নং- ৮০ (জরায়ু টিউমার)

ভাইরাস সংক্রমণের যেসব বিষয় মেনে চলা খুব জরুরি :
নিরাপদ যৌন মিলন এবং কনডম ব্যবহার জীবাণুর সংক্রমণ থেকে জরায়ুকে রক্ষা করে। যত্রতত্র এম আর (গর্ভপাত) করানো থেকে বিরত থাকতে হবে। যা কখনোই উচিৎ নয়। কারণ সেখানে জীবাণু সংক্রমণের পাশাপাশি মৃত্যু ঝুঁকিও থাকে। এই জন্য গর্ভপাত বা ডিএন্ডসি করাতে হলে কোন ভালো গাইনি বিশেষজ্ঞ চিসিকের কাছে গিয়ে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে গর্ভপাত করানো উত্তম।

যদি আপনার ধূমপানের অভ্যাস থাকলে এখনি তা ত্যাগ করার সময়। যারা ধূমপান করে তাদের রক্তে (নিকোটিনের) পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ফলে সংক্রমণের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং জরায়ুর মুখে ক্যান্সার এর ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

হট টাব বা বাথ টাব এ গোসল না করে শাওয়াওে গোসল করার চেষ্টা করুন। গোসলের পর আপনার যৌনাঙ্গ ভালো ভাবে পরিষ্কার এবং শুষ্ক রাখতে হবে। সুগন্ধি ও রুক্ষ সাবান যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে।

বিশেষ অঙ্গের নিয়মিত যত্ন ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ আপনাকে পরিছন্ন ও স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করে। যতœ নেয়া মানে শুধু গোসলের সময় পরিষ্কার করা নয়। মহিলাদের যৌনাঙ্গ প্রতিদিন তিন থেকে চারবার পরিষ্কার করা উচিৎ। বিশেষ করে বর্ষা ঋতু এবং মাসিক চলাকালীন সময়ে। এতে করে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
সুতি কাপড় নরম এবং অধিক ত্বকবান্ধব ব্যবহার করুণ। এটি দ্রুত আর্দ্রতা শুষে নেয় এবং বাতাস চলাচল করতে পারে। সুতি কাপড়ের অন্তর্বাস পরতে পারেন। এর পাশাপাশি টাইট জামা-কাপড় এড়িয়ে চলুন। এর কারণ এই ধরনের পোশাক বায়ু চলাচলে বাধা তৈরি করে। Douche ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। গর্ভাবস্থায়ও Douche এর ব্যবহার ঠিক নয়।

মানে রাখবেন যে কোনো রকম ছোট সংক্রমণকে অবহেলা করা উচিৎ নয়। আপনার প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখবেন, যৌন-স্বাস্থ্য ভালো থাকা মানে শরীর ভালো থাকা। নির্বিঘ্ন সুরক্ষিত যৌনজীবন অবশ্যই আনন্দময়।

ঔষধ সম্পর্কে আরও পড়ুন –   এইচ আর – ৭০-৭১-৭২ (জরায়ু ফাইব্রয়েডের চিকিৎসায় কার্যকর)

সময়মতো চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা :

যথাসময়ে আপনি যদি জরায়ু ইনফেকশনের চিকিৎসা না করান তবে দীর্ঘমেয়াদী হলে জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। এতে করে আপনি দীর্ঘদিন ধরে তলপেট ব্যথা, কোমর ব্যথা করে সে ক্ষেত্রে ডিম্বনালীর পথ বন্ধ হয়ে বা জরায়ু অঙ্গ প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক অবস্থান নষ্ট হয়ে সন্তান ধারণে অক্ষমতা হারিয়ে বন্ধ্যাত্বের সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি ডিম্বনালীর পথ বাধাগ্রস্ত হয়ে একটোপিক প্রেগনেন্সিও (জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ) হওয়ারও আশঙ্কা বেশি থাকে। এছাড়াও প্রজননতন্ত্র সংক্রমণের যথাযথ চিকিৎসা না নিলে অসমেয় গর্ভপাত, সময়ের আগে বাচ্চা প্রসব ও কম ওজনের বাচ্চা জন্মদানেরও ঝুঁকি থাকে। আর গর্ভবতী নয় এমন মেয়েদের ক্ষেত্রে পেলভিক ইনফ্লেমেটরি ডিজিজ এর আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। এটি (sexually transmitted disease) যেমন- ক্লামাইডিয়া, গনোরিয়া, HIV ইত্যাদি-এ সংক্রমিত হওয়ার পথকে সুগম করে। তবে মনে রাখবেন এটি প্রতিরোধযোগ্য সমস্যা। শুধু আপনি যদি একটু সচেতনতা থাকলে মারাত্মক জটিলতা থেকে রক্ষা করতে পারে।


আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। যদি এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

আরোগ্য হোমিও হল এডমিন :  এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথিক পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই ওয়েব সাইটটি কে কোন জেলা বা দেশ থেকে দেখছেন “লাইক – কমেন্ট” করে জানিয়ে দিন। যদি ভালো লাগে তবে “শেয়ার” করে আপনার বন্ধুদের জানিয়ে দিন।


এ জাতীয় আরো খবর.......
Design & Developed BY FlameDev