রবিবার, ০৯ জুন ২০২৪, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন

কেলি ফসফোরিকাম

আরোগ্য হোমিও হল / ১৪৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশ কালঃ রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২২, ৬:৪৫ পূর্বাহ্ন

কেলি ফসফোরিকাম (Kali Phosphoricum )

সাধারণ নাম – ফসফেট অব পটাশ

ভিন্ন নাম – পটাশিয়াম ফসফেট, পটাশি ফসফাস

রাসায়নিক বিশ্লেষণ- ফরমুলা – K2HPO4

ক্যালি ফসফোরিকামের ক্রিয়াস্থান : কেলিফস মস্তিস্ক, পেশী ও রক্ত কণিকা সমুহের পক্ষে অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্য। ইহা শরীরের সকল প্রকার রস ও টিসু বিধান সকলের পক্ষে অত্যান্ত অপরিহার্য্য। জীবনি শক্তি অক্ষ্ণন্ন রাখিবার জন্য যে সমস্ত উপদানের আবশ্যক, সেই সমস্ত উপদান প্রত্যেকেরই মধ্যে ফসফেট অব পটাশ বিদ্যমান রহিয়াছে। স্নায়ু সকলে এবং রস রক্তদিতে ইহা বর্তমান থাকায় মানুষের জীবনী শক্তি বহুকাল অব্যাহত থাকে এবং মানুষ দীর্ঘদিন বাঁচিয়া থাকে। ইহা অক্সিজেন সরবরাহ করিবার সাহায্যও করিয়া থাকে।

শরীরের অণ্ডমালালাসহ কেলি ফস মিশ্রিত হইয়া অক্সিজেনের সাহায্য লইয়া মস্তিস্কের স্নায়ু সমূহের যে প্রধান উপকরণ ‘গ্রে ম্যাটার’ অর্থাৎ পাংশুবর্ণ পদার্থ, তাহাই প্রস্তুত হয়। কেলি ফসের অভাব হইলে মস্তিস্কের ঐ প্রধান উপকরণটি প্রস্তুত হইতে পারে না। কিন্ত ঐ পাংশুবর্ণ পদার্থই হইতেছে মস্তিস্কের ও স্নায়ু প্রধান এবং অত্যাবশ্যকীয় পদার্থ। তাই সেখানে কেলি ফসের অভাব বা ন্যুনতা ঘটে, তখায় মস্তিস্কের বা স্নায়ুর কার্য্য বন্ধ হইয়া পড়ে,রোগীর অসীম দুর্ব্ব্যল, অবসন্নতা আসে, মানসিক উদ্যম ও শক্তি কমিয়া যায় , এবং মানসিক শিথিলতা আসে, ইহা ছাড়া তাহার স্নায়ু দৌর্ব্বল্য দেখা দেয়, পেশীর ধ্বংস সাধিত হয় ও পেশী সমূহের শুস্কতা আসে। কেলি ফসের অভাব বা কমতি হয় বলিয়াই বৃদ্ধাবস্থায় শুস্কতা দেখা দেয়। ইহার অভাবে রক্ত কণিকা ও পেশী ধ্বংস হয়। তাই রোগীর মধ্যে নানারুপ পঁচনাবস্থা দুর্গন্ধযুক্ত উদরাময়, টাইফয়েড ও পচনাবস্থা দেখা দেয়।

গ্রাভোগেল বলেন, যখন ইহা দেহে আবশ্যক মত বর্তমান থাকে, তখন দেহে টাইফস রুপ পচন অবস্থা হইতে দেয় না। কিন্ত যখন প্রস্রাব সহ এই কেলি ফস বাহির হইতে থাকে, তখন উক্ত অবস্থা সমূহ দেখা দেয়। এই কারণেই কেলি ফস পচন নিবারক ও টিসু ধ্বংস রক্ষাকরক।

কেলি ফসের অভাব হইলে মানসিক অবসাদ জনিত বিবিধ লক্ষণ ও স্নায়ুবিক দৌর্ব্বল্য, এমনকি স্নায়ুর পক্ষঘাত পর্য্যন্ত এই ঔষধের ভাল হয়। এই ঔষধের গুণে মুগ্ধ হইয়া জনৈক খ্যাতনামা চিকিৎসক বলিয়া গিয়াছেন যে, যখন জনসাধরণ ও চিকিৎসক মণ্ডলী এই ঔষধের গুণ সম্যকরুপে উপলদ্ধি করিবেন, তখন সংসারে পালা গারদের প্রয়োজন থাকবে না। হতাশা, সন্দেহ অথবা কল্পনা বাতিক যে কোন জাতীয় মনোব্যাধিতে ইহা সুফল দেয়।

ক্যালি ফসফোরিকামের অভাবে শরীরে নিন্মলিখিত অবস্থাগুলি হইয়া থাকে যেমন:

(ক) মানসিক অবস্থা- বিরক্তি ও মানসিক অবসাদ সামান্য করণে উত্তেজনা, ভীত চিত্ত, বিনা করণে বা সামান্য কারণেই ক্রন্দন, উদ্বিগ্ন ও সন্ধিগ্ধ চিত্ত, স্মরণ শক্তির হ্রাস, অবসাদ ও মস্তিস্কের কোমলাতা।

(খ) রক্ত সঞ্চালন নাড়ীর শাসক স্নায়ু – প্রথমে নাড়ী সূক্ষ ও দ্রুত হয় এবং পরে স্থগিত হয়।

(গ) বেধিক স্নায় – বেদনা এবং পক্ষাঘাত অবস্থা, বেদনা স্থির হইয়া থাকিলে বৃদ্ধি ও সামান্য সঞ্চালণে হ্রাস।

(ঘ) শাসক স্নায়ু – পেশী ও স্নায়ুর অবসাদ ও পক্ষাঘাত।

(ঙ) সহানুভুতিকারক স্নায়ু – পোষণ অভাব হেতু যে কলা নন্থস সমুহ কোমল ও মন্দাবস্থা প্রাপ্ত হয়, এই কারণে পেশী সমুহের মেদোময়তা বৃদ্ধি এবং রস ও রক্ত সকলের পচন ও রক্ত কণিকা সমুহ শীঘ্র ধ্বংস হয়।

ক্যালি ফসফোরিকামের বিশেষত্ব : স্নায়ু উপর কেলি ফসের ক্রিয়া অসাধরণ। কেলি ফসের গুণ এতই সুন্দর যে, যখন কোন ব্যাক্তি, রোগী শূত্রুষা বা কোন দুর্ব্বলতা জন্য কোন কার্য্যে অনুৎসোহিত হইবে, তখনই একটু কেলি ফস ও এক গ্লাস ঈষদষ্ণ জল পান করিতে দিলেই সমস্ত দুর্ব্বল্যতা ও অবসন্নতা নষ্ট হইয়া নতুন জীবন ও নতুন উৎসাহ বৃদ্ধি পাইবে। বিচারক, শিক্ষক বা ছাত্র সাহারা অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রম করেন, তাঁহাদের পক্ষে ইহা নিত্য ও অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্য। স্নায়ুর উত্তেজনা বা ক্ষয় বশতঃ যে সমস্ত পীড়া হয়, তাহাতে অন্য ঔষধেরই লক্ষণ থাকুক না কেন ইহাই সর্ব প্রধান এবং অপরিহার্য্য ঔষধ। পীড়া শেষাবস্থায় ইহা বেশী কার্য্যকরী। কেননা শেষের দিকে রোগীর দৈহিক ও মানসিক অবসন্নতা, উত্তেজিত ও খিটখিটে স্বভাব এবং নানা প্রকার সাংঘাতিক অবস্থা প্রাকাশ পায়। মল, গয়ার, ঘর্ম, ঋতুস্রাব, ক্ষত স্থান হইতে নিঃসৃত পূঁজ প্রভৃতি সর্ব্ব প্রকার স্রাবেই অসহ্য দুর্গন্ধ থাকে। দুর্গন্ধ ও পচন নিবারণে ইহার তল্য ঔষধ আর নাই। যে কোন স্থানে পক্ষঘাত জনিত যাবতীয় রোগেই ইহার বিস্তৃত অধিকার আছে। শ্বাসকষ্ট নিবারণে ইহার বিশেষ ক্ষমতা দৃষ্ট হয়। সব জাতীয় দুর্বলতায় ক্যাল্কেরিয়া ফসই প্রধান ঔষধ। কিন্ত স্নায়ুবিক দুর্ব্বলতায় কেলি ফস। কোন স্থান হইতে কালচে রক্তস্রাব হওয়া ইহার একটি লক্ষ।

ক্যালি ফসফোরিকামের সাবধানতা : 6X এবং নিন্ম শক্তি ক্রমাগত অধিকদিন ধরিয়া ব্যবহার করা ঠিক নহে।

ক্যালি ফসফোরিকামের পরিচায়ক লক্ষণাবলী :

১/সামান্য কারণে বিরক্ত হওয়া, উদ্বিগ্ন, অকারণে ভীত হওয়া সকল বিষয়েই দুর্ভাবনা, অত্যন্ত খিটখিটে স্বভাব, নিরুৎসাহিতা, সামান্য কার্যকে অতি কঠিন বলিয়া ধারণা করা, নানা প্রকার মিথ্যা কল্পনার উদর হওয়া, বাসগৃহ ত্যাগ করিবার ভয়ে ভীত হওয়া, সমস্ত বিষয়েই মন্দ দিক দর্শন করা, সর্বদা মতিগতির পরিবর্তন হওয়া প্রভৃতি মানসিক লক্ষণ বিশেষ উল্লেখ্যযোগ্য।

২/ অত্যান্ত অবস্নতা, তেজোহীনতা ও অস্থিরতা।

৩/ স্মরণশক্তির হ্রাস। অতিশয় মানসিক পরিশ্রমবশতঃ মস্তিস্কের ক্লান্তি।

৪/ সংজ্ঞাহীনতা, বিড় বিড় করিয়া প্রলাপ বকা (নেট্রাম মিউর), উচ্চ প্রলাপও থাকে (ফেরাম ফস), মস্তিস্কের কোমলতা, ডিলিরিয়াম ট্রিমেন্স।

৫/ নানাপ্রাকার বিকৃতি এবং সর্বপ্রকার উন্মাদের প্রধান ঔষধ।

৬/ দিবারাত্র দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ, হিষ্টিরিয়া পীড়ায় পর্যয়ক্রমে হাসি কান্না। হিষ্টিরিয়া পীড়ায় একটা বল বা গোলার ন্যায় পদার্থ গলার নিকট উঠিতেছে।

৭/ শোক, দুঃখ বা মানসিক বিকৃতিবশতঃ যে কোন পীড়া।

৮/ সামান্য করণেই কাাঁদিয়া ফেলা।

৯/ স্নায়ুমণ্ডেলের অবসন্নতা ও দৌর্বল্যজনিত শিরঃপীড়া। অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমজনিত মাথাধরা। শিরঃপীড়া সহ অতিশয় ক্ষুধার উদ্রেক, নিদ্রাহীনতা, চিন্তা করিবার ক্ষমতাহীনতা, মাথা ভার প্রভৃতি বিবিধ লক্ষণ প্রকাশ পায়, একাকী থাকিলে, সামান্য শব্দে, শয়নে ও মানসিক পরিশ্রমে বৃদ্ধি এবং ঈষৎ মস্তস্ক সঞ্চালনে স্ফুর্তিজনক কার্যে হ্রাস।

১০/ অর্থ শিরঃশূলের প্রধান ঔষধ।

১১/ সর্বপ্রকার এবং সর্বস্থানের পক্ষাঘাতের ইহাই প্রধান ঔষধ।

১২/ যে কোন স্থান হইতেই হউক না কেন, যদি আলকাতরার ন্যায় কাল, কালচে লাল, তরল ও জমাট বাঁধে না এবং সহজেই পচনশীল এরুপ রক্তস্রাব হয়, তাহা হইলে এই ঔষধ বিশেষ ফলপ্রদ। দুর্বল ও শিথিল প্রকৃতির ব্যাক্তিদিগের সহজেই রক্তস্রাব।

১৩/ কেলি ফসের সর্বপ্রকার স্রাবেই অতিশয় দুর্গন্ধ থাকে। পূঁজে, মলে লালায়, বমনে, রক্তে এবং কর্ণে, নাসিকা ও জননেন্দ্রিয়ের নিঃসৃত স্রাবে সহনীয় দুর্গন্ধ থাকে।

১৪/ ডিফথিরিয়া পীড়ায় অবসন্নাবস্থায় অতিশয় কার্যকরী। ডিফথিরিয়া পীড়ার বরবর্তী নানাপ্রকার কুফল নিবারণে ইহার বিশেষ ক্ষমতা আছে।

১৫/ অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রম ও স্নায়ুবিক দৌর্বল্যবশতঃ অজীর্ণ পীড়া। অত্যাধিক ক্ষধার উদ্রেক। অহারের পর বমন বা তন্দ্রা। বিনিগার বা ঠাণ্ডা পানীয় অতীব স্পৃহা।

১৬/ অতিশয় দুগন্ধজনক কর্দমৎ তরণ মল। দুর্গন্ধজনক যে কোন বর্ণের মল। উদরাময় সহ অতিশয় দুর্বলতা ও অবসন্নতা। পায়খানার বেগ হওয়া মাত্রই তাড়াতাড়ি যাইতে হয়। মলদ্বারে পক্ষঘাত ও হারিশ বাহির হওয়া।

১৭/কলেরায় চাইল ধোয়া জলের ন্যায় বর্ণবিশিষ্ট দুর্গন্ধজনক ভেদই ইহার বিমেষত্ব। পতনাবস্থায় যখন চোখ মুখ বসিয়া যায়, মাড়ী দমিয়া যায়, সর্বাঙ্গে শীতল, প্রভৃত ঘর্ম ইত্যাদি দুর্লক্ষণ প্রকাশ পায় তখন অত্যকৃষ্ট। অতিসারিক ওলাওঠায় ইহা উপযোগী।

১৮/ মূত্রস্থলীর মূখরোধক পেশীর পক্ষঘাত বশতঃ অসাড়ে প্রস্রাব। প্রস্রাবের বেগ ধারণে অসমর্থ। বালকদিগের শয্যামূত্রে উৎকৃষ্ট (ফেরাম ফসসহ, কৃমিজনিত হইলে নেট্রাম ফসসহ)

১৯/ হস্তমৈথুন, অত্যাধিক স্ত্রীসহবাস অথবা অন্য কোন কারণে অধিক বীর্যক্ষয়বশতঃ স্নায়বিক দৌর্বল্যে এই ঔষধ বিশেষ কার্যকরী। একেবারে বীর্যক্ষয় না হইলে যে সমস্ত পীড়া হয়।

২০/ বিনা উত্তেজনায় স্বপ্নদোষ, অথবা অত্যান্ত কষ্টজনক স্বপ্নদোষ। ধ্বজভঙ্গ পীড়া।

২১/ শারীরিক ও মানসিক ও মানসিক দৌর্বল্যবশতঃ শীর্ণাঙ্গ রমনীদিগের মাসিক ঋতুস্রাবের বিলম্ব। রোগিনীর স্বভাব খিটখিটে, সহজেই ক্রন্দনশীল ও অস্থির। ঋতুস্রাব স্বল্পপরিমাণে হয়। দুগন্ধজনক কালচে এবং সহজে জমাট বাঁধে না এইরুপ তরল রক্তস্রাবই ইহার বিশেষত্ব। নড়াচায় ও উপুড় হইয়া শয়েনে কষ্টের উপশ্রম।

২২/ শ্বেতপ্রদরের স্রাব তীব্র, জ্বালাজনক, ক্ষত উৎপাদক (নেট্রাম মিউর) ও দুগন্ধজনক।

২৩/ প্রসববেদনা অনিয়মিত, দুর্বল ও অকার্যকরী। রোগিনী অতিশয় উত্তেজিত, সহজেই ক্রন্দনশীল, ভীত এবং হতাশশচিত্ত। ইহা সেবনে জরায়ুর বল বৃদ্ধি হইয়া সহজে প্রসব করায়।

২৪/ বক্ষঃসংক্রান্ত রোগে ঘনঘন প্রশ্বাস পড়িতে থাকিলে অত্যুৎকৃষ্ট। সমান্য কিছু আহারের পর, পরিশ্রম করিলে ও নড়াচড়া করিলে পীড়ার বৃদ্ধি। রোগী অতিশয় দুর্বল ও অবসন্ন। গাঢ়, হরিদ্রাবর্ণ ও লবণাক্ত আস্বাদযুক্ত দুগন্ধময় শ্লেম্মা।

২৫/ হৃৎপিণ্ডের কোন প্রকার পীড়ায় যখন হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন অনিয়মিত, নাড়ী দুর্বল, অনিদ্রা ও স্নায়ুবিক উত্তেজনা লক্ষিত হয়।

২৬/ বাতে আক্রান্ত স্থান কঠিন, আড়ষ্ট ও টানিয়া ধারার ন্যায় হইলে, বেদনা বিশ্রমে ও অধিক সঞ্চালনে হ্রাসপ্রাপ্ত হয়। এই সঙ্গে স্নায়বিক লক্ষণে থাকিলে অধিকতর উপযোগী।

২৭/ ইহা অনিদ্রা রোগের মহৌষধ।

২৮/ স্নায়বিক দৌর্বল্যের ইহা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট ঔষধ আর নাই। স্নায়বিক দৌর্বল্যবশতঃ যে কোন পীড়া।

২৯/ জ্বরে যখন অত্যাধিক উত্তাপ বৃদ্ধি পায়। সর্বপ্রকার মৃদু, অনিষ্টকর সাংঘাতিক এবং অবসন্নকর জ্বরে অতিশয় ফলপ্রদ। মল অতিশয় দুর্গন্ধজনক এবং জিহ্বা শুস্ক ও বাসি সরিষা বাটার ন্যায় লেপাবিষ্ট। প্রলাপ থাকিলে। নাসিকা ও মলদ্বার দিয়া রক্তস্রাব।

৩০/ সর্বপ্রকার লক্ষণেই প্রাতঃকালে অধিক সঞ্চালনে, শব্দে গোলযোগে, বিশ্রামে ও নির্জনে বৃদ্ধি এবং সামান্য সঞ্চালনে, বহু লোকের সহিত বাস করিলে, মানসিক প্রফুল্লতায় হ্রাস।

মানসিক লক্ষণ : কেলি ফসের মানসিক লক্ষণ বর্ণনা কালে সকলেই বুঝিতে পারিবেন যে, ইহা স্নায়বিক ধাতুর অবিকল প্রতিচ্ছবি।

ক্যালি ফসফোরিকামের বৃদ্ধি উপশম :

বৃদ্ধি : প্রাতঃকালে, ক্রমাগত সঞ্চালনে, গোলমালে, সন্ধ্যা সময়, রাত্রে, শব্দে, ঋতৃর পূর্বে, নিদ্রাকালে, বসিয়া থাকার পর উঠিয়া বসিলে, স্থির থাকার পর ও একাকী থাকায় সর্ব প্রকার রোগ লক্ষণের বৃদ্ধি ঘটে। প্রায় রোগই বিশ্রাম কালে খারাপ হয়। সাধারণতঃ ঠাণ্ডা বাতাসে, শীতকালে, ঠাণ্ডা স্থানে বাস করিলে, আর্দ্র আবহাওয়ায়, সহবাসের পর এবং আহারের পর বৃদ্ধি পায়। রোগী সব সময় শীত শীত বোধ করে।

উপশম : ঋতু আরম্ভ হইলে, শয়নে, বসিলে কোমরের বেদনা, নুইয়া থাকিলে শূল বেদনা, উদ্গারে, উত্তাপে, সামান্য সঞ্চালনে, মানসিক প্রফুল্লতায়, অনেক লোকের সহিত একত্রে থাকিলে, আমোদ প্রমোদে, হস্ত সঞ্চালনে পাখার বাতাসে উপশম।

ক্যালি ফসফোরিকামের সমন্ধ : কেলি ফসের সহিত ম্যাগ ফস, নেট্রাম মিউর, ফেরম ফস এবং কেলি মিউরের বিশষ সম্ভন্ধ দৃষ্ট হয়। মূত্রস্থলীর পীড়া এবং পক্ষাঘাতিক হইলে বা স্নায়বিক লক্ষণের আধিক্য থাকিলে কেলি ফস ব্যবহৃত হয়। বিড়বিড় করিয়া প্রলাপে ফেরাম ফসের সহিত এবং সুতকা জ্বরে কেলি মিউরের সহিত পর্য্যয়ক্রমে আবশ্যক হয়। বহু পীড়ায় ক্যাল্কেরিয়া ফসের সহিত কেলি ফস ব্যবহৃত হয়।

ক্যালি ফসফোরিকামের শক্তি ব্যবহার করা হয় : ৩X, ৮X, ৬X, ৩০X, ৬০X, ও ২০০X,  ব্যবহৃত হয়। সর্ব প্রকার পীড়ায় ইহার ৬X শক্তি বেশী ব্যবহৃত হয়। তবে ক্ষয়কাশ পীড়ায় এবং ওলাউঠায় ৩X, গর্ভবস্থায় বা প্রসবকালীন ৪X, হিষ্টিরিয়ায় ১২X ও ৩০X, টাইফস বা টাইফঢেড জ্বরে ৬X, এলোপ্যাথিক চিকিৎসার পর ৩০X, পেশী শুস্কতায় ৬০X, ২০০X, নার্ভাসনেসে ১২X শক্তি ব্যবহার্য্য। ৬X বা তার নীচে বেশী দিন উপর্যুপরি ব্যবহার উচিৎ নয়। অনেকদিন ব্যবহার করিতে হইলে ১২X শক্তির নীচে ব্যবহার করা সঙ্গত নয়। ডাঃ কেন্টের মতে উচ্চ ও সর্বোচ্চ শক্তি গুলির দ্বারই অধিক ফলপ্রাপ্ত হওয়া যায় এবং উহার এক মাত্রা ব্যবহার করাই যুক্তিসঙ্গত।

ক্যালি ফসফোরিকামের যে সকল পীড়া ব্যবহৃত হয়:

রক্তহীনতা, মস্তিস্ক শূন্যতা, শ্বাসকাশ, টাকপড়া, স্বল্পরজঃ হাইড্রোফেফাসিলস, স্মৃতিহীনতা, সন্ধিগন্ধচিত্ততা, মেলনকোলিয়া, কার্বংকল, কলেরার শেষাবস্থা, ডিপথিরিয়া, ডিপথিরিয়ার পর পক্ষাঘাত বা অন্যান্য উপসর্গে, চিলব্লেন, পচনশীল রক্তামশয়, মুত্রবেগ ধারণে অক্ষমতা, স্নায়ুশূল, স্নায়বিক বেদনা, পক্ষাঘাত, অনিদ্রা, হিষ্টিরিয়া, ঋতুকালীন শিরঃপীড়া, স্নায়ুবিক অজীর্ণতা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের শোধ, স্বল্প বা অকার্য্যকরী প্রসব বেদনা, প্রসব কালীন জ্বর ও উন্মাদ, সায়েটিকা, স্বার্ভি, হুপিং কাশি, ক্ষয়কাশ, বসন্ত, হৃদস্পন্দন, মূর্চ্ছা টাইফয়েড ও টাইফস, পাকস্থলীর ক্ষত, আঙ্গুলহাড়া, শীতপিত্ত প্রভৃতি পীড়ায় কেলি ফস ব্যবহৃত হয়।

ক্যালি ফসফোরিকামের মতামত : সকল প্রকার মানসিক বিকার এই ঔষধের সংশোধিত হয়। প্রসব কার্য্যের সহায়তার জন্য ইহা উৎকৃষ্ট ঔষধ। প্রসব হইবার একমাস পূর্ব হইতে নিয়মিত দুই একমাত্রা সেবন করিতে দিলে নির্বিঘ্নে প্রসব কার্য্য সমাধা হয়। পূর্বে দেওয়া না হইলে প্রসবকালীন উষ্ণজলসহ সেবন করিতে দিলে ২/৩ ঘন্টার মধ্যে প্রসব কার্য্য সম্পন্ন হয়। বিকার প্রভৃতি অবস্থায়  ইহা ফেরাম ফস বা নেট্রাম মিউর সহ পর্য্যায়ক্রমে ব্যবহার্য্য। প্লেগ, সবিরাম বা অন্য জ্বরে যখন দৈহিক উত্তাপের হ্রাস জ্বর।

কেলি ফসের অভাব হইলে চিন্তা করিবার কোষ সমূহে কতগুলি লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন – উদ্বেগ,ভীত চিত্ত, নিরোৎসহ, ক্রন্দ স্বভাব সন্ধিগ্ধচিত্ত, মেলা বা জনসমাগমে যাইতে অনিচ্ছা প্রভৃতি স্মৃতিশক্তির হ্রাস। বোধক স্নায়ুতে কেলি ফসের অভাবে পক্ষঘাত ও বেদনা হয়। শাসক স্নায়ুতে ইহার অভাব হইলে পেশী ও স্নায়ুর দুর্ব্বলতা ও পক্ষাঘাত হয়। সববেদক স্নায়ুতে ট্রফিক সুত্রের কোষ সমুহে অভাব হেতু পরিপোষণ ক্রিয়া বন্ধ হইয়া সেই স্থানে কোমলতা উৎপাদন করে। অবসন্নতা বা অনুৎসহ ইহা প্রয়োগের প্রধান লক্ষণ। দেহে কেলি ফসের অভাব হইলে শারীরিক স্রাব সকল স্বর্ণবর্ণ বা পক্ক কমলা লেবুর ন্যায় হরিদ্রাবর্ণ ও প্রস্রাব হরিদ্রা বর্ণ হয়। রক্তের উপরও ইহা কার্য্য করিয়া থাকে। ইহার অভাব রক্ত নষ্ট হইয়া যায়। রক্তস্রাব হয়, রক্ত পচিয়া গ্যাংগ্রিন হয়, সকল প্রকার স্রাবই পচাগন্ধযুক্ত ও পচাটে রক্ত মিশ্রিত।

শরীরিক রক্তদিতে কেলি ফসের অভাব হইলে অতিশয় দুর্বলতা, পেশী সমূহের ক্ষয় বা শুস্কতা, স্নায়ু প্রাধান্য শরীর অত্যন্ত উত্তপ্ত, অস্থির এবং সহজেই উত্তেজিত হয়। স্নায়বিক দুর্বলতা জন্য হস্তপদ কম্পন, জিহ্বা যেন টাকরায় লাগিয়া আছে। গলার ভিতর যেন চেলার ন্যায় কোন বস্তু উঠিতেছে। মাথার মধ্যে যেন হাউই চলিতেছে। মাথার বিন্ধনবৎ বেদনা, আঙ্গুলের অগ্রভাগ অসাঢ়, সামান্য স্পর্শে চমকাইয়া উঠে পর্য্যায়ক্রমে দন্তশূল ও শিরঃপীড়া। ডা: কে. কি. নোটিংহাম বলেন, জননেন্দ্রিয় অতিরিক্ত পরিচালন বা একেবারে অপরিচালনার জন্য স্নায়বিক দুর্বলতা বা ধ্বজভঙ্গ হইলে কেলি ফস বিশেষ উপকারী। বিশেষতঃ যদি উপরোক্ত পীড়া সহ সেক্রমে বেদনা, অনিদ্রা, ঘাড়ে ও মস্তকের পেছনে বেদনা, সাধারণ উত্তেজনার অভাব, অতিশয় নিরোৎসহ, বার বার প্রস্রাব ত্যাগ করা, প্রস্রাব সহ ফসফেট নির্গমন থাকে।

কোন তরুন পীড়া যেমন এক জ্বর অন্য প্রকার জ্বর পীড়ায় যদি টাইফয়েড অবস্থা হইয়া থাকে তখন কেলি ফস বড়ই উপকারী। এই প্রকার অবস্থা সহ যদি রোগী তন্দ্রাভিভূত ও বিড়বিড় করিয়া প্রলাপ বকিতে থাকে, তাহা হইলে নেট্রাম মিউর সহ পর্য্যায়ক্রমে ব্যবহার্য্য। রোগী যদি খুবই উত্তেজিত হয় অর্থাৎ মস্তিস্কে অতি মাত্রায় রক্ত সঞ্চালন জন্য চোখ মুখ লাল বর্ণ ও পাগলের মত হয়, উঠিয়া বসিতে চায়, বিছানা হইতে লাফাইয়া পড়িতে চায় তবে ফেরাম ফস সহ পর্য্যায়ক্রমে দিবেন। সুনিদ্রার জন্য কেলি ফস নিন্মক্রমই অধিক ফলপ্রদ। সুতিকাজ্বরে কেলি মিউর সহ, মূত্রস্থলী পীড়ায় ম্যাগফস সহ, রক্তস্রাব পীড়ায় নেট্রাম মিউর সহ পর্য্যয়ক্রমে ব্যবহার্য।

ক্যালি ফসফোরিকামের ঔষধ সেবন বিধি :

প্রাপ্ত বয়স্কারা ৫টি করে ট্যাবলেট দিনে ৩ অথবা ৪ বার। অপ্রাপ্ত বয়স্করা ৩টি করে ট্যাবলেট দিনে ৩ অথবা ৪ বার কুসুম কুসম গরম পানির সহিত সেবন করতে হবে অথবা রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শে সেনব করুন।

সমাপ্ত

আরোগ্য হোমিও হল এডমিন : এ ওয়েব সাইটের মুল উদ্দেশ্যে হচ্ছে স্বাস্থ্য সম্পের্ক কিছু দান করা বা তুলে ধরা। সাধারণ মনুষের উপকার হবে। বিশেষ করে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও ছাত্ররা উপকৃত হবেন। এ ওয়েব সাইটে থাকছে পুরুষ স্বাস্থ্য বা যৌনস্বাস্থ্য, গাইনি স্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, মাদার টিংচার, সিরাপ, বম্বিনেশন ঔষধ, বাইকেমিক ঔষধ, হোমিওপ্যাথিক বই, ইউনানি, হামদর্দ, হারবাল, ভেজষ, স্বাস্থ্য কথা ইত্যাদি। এই ওয়েব সাইটটি কে কোন জেলা বা দেশ থেকে দেখছেন “লাইক – কমেন্ট” করে জানিয়ে দিন। যদি ভালো লাগে তবে “শেয়ার” করে আপনার বন্ধুদের জানিয়ে দিন।


এ জাতীয় আরো খবর.......
Design & Developed BY FlameDev