শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

অনিয়মিত মাসিকের কুফল এবং সমাধান

আরোগ্য হোমিও হল / ১১৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশ কালঃ সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৩:০৬ অপরাহ্ন
যোনির ক্যান্ডিডায়াসিস বা সংক্রমণের ৫টি হোমিওপ্যাথিক

অনিয়মিত মাসিকের কুফল এবং সমাধান

আরোগ্য হোমিও হল এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা এখানে আলোচনা করবো মেয়েদের অনিয়মিত মাসিক হওয়ার কুফল এবং সমাধান কি। অনিয়মিত মাসিক মেয়েদের এটি একটি বিরক্তিকর স্বাস্থ্য সমস্যা। এখানে আমরা অনিয়মিত মাসিক কাকে বলে, অনিয়মিত মাসিকের কুফল এবং এর থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া পদ্ধতিতে করনিয় বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করবো। এটা সবার জানা জরুরী! তো আর কথা নয় – সরাসরি মূল আলোচনায়।

ঔষধ সম্পর্কে পড়ুন – অনিয়মিত ঋতুস্রাবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

অনিয়মিত মাসিক বা ঋতুস্রাব বলতে কী?
মেয়েদের ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পর এক ঋতুস্রাব থেকে অন্য ঋতুস্রাবের ব্যবধান ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে হলে তাকে নিয়মিত মাসিক বলে ধরা হয়। অর্থ্যৎ একবার মাসিক হওয়ার পর যদি ২১ থেকে ৩৫ দিনের ভিতর পরবর্তি মাসিক হয় তাহলে তাকে স্বাভাবিক ঋতু¯্রাব বা মাসিক বলা হয়। আর যদি ২১ দিনের আগে অথবা ৩৫ দিনের পরে মাসিক হয় তাহলে সেটিকে অনিয়মিত মাসিক বলা হয়।
নিয়মিত স্বাভাবিক সময়ে মাসিক না হলে এ জন্য কিছু কুফল দেখা দিতে পারে। নিন্মে এর কিছু কুফলগুলো তুলে ধরা হলো । তবে সব মেয়ের ক্ষেত্রেই যে এর কুফল দেখা দিবে এটা বলা যাবেনা। আবার কারো কারো হয়তো কোন সমস্যা নাও হতে পারে।

ঔষধ সম্পর্কে পড়ুন – এইচ আর – ২১ (মাসিক সমস্যায় কার্যকর)

অনিয়মিত মাসিক বা ঋতুস্রাবের কুফল :
(১) মাসিক যথা সময়ে নিয়মমত না হলে পেট ব্যাথা হতে পারে।
(২) মাসিক অনিয়মিত হলে অনেকেরই ঘন ঘন মাথা ব্যাথা হতে পারে।
(৩) ঋতুস্রাব নিয়মিত না হলে ওজন বাড়তে পারে।
(৪) অনিময়িত মাসিকের কারনেই মুখে ব্রন হয়, চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট করে।
(৫) অনিয়মিত মাসিকের কারনে অনেক মেয়ের খাবারে রুচি থাকে না ।
(৬) অনিয়মিত মাসিকের কারনে মেজাজ খিটখিটে হয় ।

অনিয়মিত মাসিক হলে করনিয় কি :
আমরা এখানে মুলত ঘরোয়া পদ্ধতিতে কি ভাবে অনিয়মিত মাসিক বা ঋতু¯্রাব সমস্যার সমাধান করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করবো।
(ক) কাঁচা হলুদ : প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন শারিরিক সমস্যায় কাঁচা হলুদ ব্যবহার হয়ে আসছে। মাসিক নিয়মিত করতে এবং হরমোনের ভারসাম্য ঠিক করতেও কাঁচা হলুদ সাহায্য করে। এক কাপ দুধের সাথে চা চামচের চার ভাগের ১ ভাগ কাচা হলুদ এবং অল্প পরিমান মধু অথবা গুড় মিশিয়ে নিয়মিত পান করলে ভালো ফলাফল পেতে পারেন ।

(খ) আদা কুচি : ১ চামচ আদা কুচি ১ কাপ ফুটন্ত পানিতে ৫-৬ মিনিট ফুটিয়ে অল্প চিনি অথবা মধু মিশিয়ে তিনবেলা খাবার খাওয়ার পর ভরাপেটে পান করলে মাসিক নিয়মিত করে তুলতে অনেকের ক্ষেত্রেই সাহায্য করে।
(গ) জিরা : দেড় থেকে দুই চা চামচ জিরা সারারাত ১ গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে সকালে উঠে জিরা সহ পান করুন । এটি মাসিক নিয়মিত করে তুলতে ভূমিকা রাখে ।

ঔষধ সম্পর্কে পড়ুন –  কেন্ট ১২ (অনিয়মিত মাসিক রোগে কার্যকর)

(ঘ) কাচা পেপে : প্রতিদিন ১ কাপ কাচা পেপের রস খেলে উপকার পেতে পারেন। পেপের রস মাসিক নিয়মিত করার পাশাপাশি খাবার হজমেও যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
(ঙ) তেতুল : তেতুল সহ আরও কিছু টক জাতীয় ফল মাসিক নিয়মিত করতে সাহায্য করে। হালকা চিনি মিশিয়ে পানিতে এক ঘণ্টা তেতুল ভিজিয়ে রাখুন। এর সাথে অল্প পরিমান লবণ, চিনি ও জিরা গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন। এটি আপনার অনিয়মিত মাসিক সমস্যার সমাধানে ভালো ভূমিকা রাখে ।
(চ) আপেল সাইডার ভিনেগার : প্রতিদিন খাবার খাওয়ার আগে ১-২ টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার পানির মিশিয়ে পান করুন। রক্তের ইলসুলিন এবং ব্লাড সুগার কমিয়ে দিতে আপেল সাইডার ভিনেগার সাহায্য করে এর পাশাপাশি মাসিক নিয়মিত করে ।

ঔষধ সম্পর্কে পড়ুন – গাইনো কার্ড ট্যাবলেট (শ্বেত প্রদর ও মাসিকের সম্যাসায় টনিক)

মানসিক নিয়মিত না হলে অস্বস্তি তৈরি বোধ :
(১) বেশি বেশি করে শাকসবজি খেলে মাসিক নিয়মিত হতে সাহায্য করে।
(২) অতিরিক্ত খাবার ডায়েট করলে স্বাভাবিক ঋতুস্রাবের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে । তাই অনিয়মিত মাসিক হলে খাবার ডায়েট না করে ওজন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করতে হবে।

ঔষধ সম্পর্কে পড়ুন – গাইনো কার্ড সিরাপ (শ্বেত প্রদর ও মাসিকের সম্যাসায় টনিক)

আপনি যদি উপরে উল্লেখিত নিয়মগুলো মেনে চলেন তবে অনিয়মিত মাসিক সমস্যার সমাধান হবে আশা করা যায় । কয়েক মাস এই নিয়মগুলো মেনে চলুন। আপনার এসব ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চলার পরও যদি সমস্যার সমাধান না হয় তা হলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত হবে ।

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। যদি এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

আরোগ্য হোমিও হল এডমিন : এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথিক পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন।  এই ওয়েব সাইটটি কে কোন জেলা বা দেশ থেকে দেখছেন “লাইক – কমেন্ট” করে জানিয়ে দিন। যদি ভালো লাগে তবে “শেয়ার” করে আপনার বন্ধুদের জানিয়ে দিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।


এ জাতীয় আরো খবর.......
Design & Developed BY FlameDev