শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০৭ অপরাহ্ন

অনিয়মিত পিরিয়ডের ৯টি ঘরোয়া সমাধান

আরোগ্য হোমিও হল / ১৪৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশ কালঃ বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৩, ৫:৫৬ অপরাহ্ন

অনিয়মিত পিরিয়ডের ৯টি ঘরোয়া সমাধান
আরোগ্য হোমিও হল এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা এখানে আলোচনা করবো মেয়েদের অনিয়মিত পিরিয়ডের ৯টি ঘরোয়া সমাধান কি তা নিয়ে আজকের জনবো, এটা সবার জানা জরুরী! তো আর কথা নয় – সরাসরি মূল আলোচনায়।

যে কোনো বয়সের মহিলাদের অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা দেখা যায় বা দিতে পারে। বিশেষ করে অবিবাহিত মহিলাদের বেশি দেখা যায়। সাধারণত অনেক বেশি স্ট্রেস, পরিশ্রম, দুর্বলতা, জীবনযাত্রার মানে বড় কোন পরিবর্তন- এসব কারণে অনিয়মিত মাসিক হতে পারে। আবার শারীরিক ত্রুটির কারণেও মাসিক অনিয়মিত হতে পারে। অনিয়মিত মাসিকে নিয়মিত করতে চিকিৎসকেরা সাধারণত হরমোন থেরাপি দিয়ে থাকেন, যা আমরা খাবার পিল হিসেবে জানি। কিন্তু এসব খাবার পিল-এর অনেক ধরনের সাইড ইফেক্ট আছে। যেমন – মোটা হয়ে যাওয়া, খাবারের অরুচি, পিম্পলস, মাথা ব্যথা, পা ব্যথা, পেট ফাঁপা ইত্যাদিসহ নানান অসুবিধা দেখতে পায় ।

আসুন জেনে নেওয়া যাক ৯টি ঘরোয়া সমাধান সম্পর্কে যা কোন ঔষধ না খেয়েও অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা দূর করতে চেষ্টা করতে পারেন-(ক) অ্যালোভেরা : অ্যালোভেরার শাঁস রূপচর্চার পাশাপাশি পিরিয়ড নিয়মিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি হরমোন রেগুলেশন করতে সাহায্য করে। সব চেয়ে ভালো ফলাফল পেতে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে তাজা অ্যালোভেরা পাতার রস সামান্য মধুর সাথে মিশিয়ে খান। তবে মানে রাখবেন মাসিক চলাকালীন না খাওয়াই ভালো।

আরও পড়ুন – র‌্যাক্স নং- ৭৬ (মহিলাদের সমস্যা)

(খ) কাঁচা পেপে : কাঁচা পেপে মাসিক নিয়মিত করতে সাহায্য করে। এটি জরায়ুর মাসল ফাইবার কন্ট্রাকশন এ সাহায্য করে থাকে। আপনি যদি কয়েক মাস নিয়মিত কাঁচা পেপের রস খেলে মাসিক নিয়মিত হয়, তবে মাসিক চলাকালীন এটি না খাওয়াই উত্তম। মাসিক নিয়মিত করা ছাড়াও কাঁচা পেপে হজমে সাহায্য করে ও ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং ত্বক মসৃণ করতে সাহায্য করে।

(গ) কাঁচা হলুদ : হলুদ মসলা জাতীয় দ্রব্য হলেও প্রাচীন কাল থেকেই চিকিৎসা শাস্ত্রে এর ব্যবহার হয়ে আসছে। কাঁচা হলুদ মাসিক নিয়মিত করতে এবং শরীরে হরমোন ব্যাল্যান্স ঠিক রাখতে সহযোগীতা করে। কাঁচা হলুদ জরায়ুর মাংসপেশী সঙ্কোচন ও প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ মাসিকের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এক কাপ দুধের সাথে চা চামচের চার ভাগের এক ভাগ কাঁচা হলুদ নিয়ে মধু অথবা গুড় দিয়ে কিছুদিন খেয়ে দেখুন, আপনি পরিবর্তন নিজেই বুঝতে পাবেন।

আরও পড়ুন –  নেট্রাম মিউরিয়েটিকাম

(ঘ) অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার : মাসিক অনিয়মিত হওয়ার অনেক কারণের মধ্যে একটা হলো রক্তে ইনসুলিন ও সুগারের মাত্রার তারতম্য। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের মাধ্যমে আপনি নিজেই এর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এক গ্লাস পানিতে ২ চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে প্রতিদিন খাবার খাওয়ার আগে খেয়ে হবে। আপনার মাসিক সাইকেল নিয়ন্ত্রণে এটি অনেক সাহায্য করে ।

(ঙ) আদা : এক কাপ পানিতে ১ চা চামচ পরিমাণ মিহি আদা কুঁচি নিয়ে ৫-৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এখন এর সঙ্গে কিছু পরিমাণে চিনি অথবা মধু মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন খাবার খাওয়ার পর এই পানি আপনি তিন বেলা খাবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, এই পানি ভরা পেটে খেতে হবে। এ ভাবে খেতে থাকে দেখবেন কয়েক মাসের মধ্যেই এর সুফল পাবেন। আদা মাসিক সাইকেল নিয়মিত করতে সাহায্য করে এবং অনিয়মিত মাসিক নিয়মিত করে।

(চ) জিরা : মাসিক নিয়মিত করতে জিরা বেশ ভালো কাজে দেয়। এটি খবারে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এক গ্লাস পানিতে ২ চা চামচ জিরা সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে এই পানি এবং জিরা দুটোই খেয়ে ফেলুন। এটি নিয়মিত সেবন করে দেখুন, সুফল পাচ্ছেন।

(ছ) দারুচিনি : এটি এমন একটি খাবার যা বহুগুণে গুণান্বিত এই দারুচিনি তার মধ্যে অন্যতম। অনিয়মিত মাসিক দূর করতে চা অথবা লেবুর রসের সাথে দারুচিনি গুড়া মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি মাসিক নিয়মিত করার পাশাপাশি মাসিক কালীন ব্যথা কমাতেও যথেষ্ট ভুমিকা রাখে।

(জ) ফল ও সবজির জুস : আপনার খাদ্য তালিকায় বেশি বেশি ফল ও সবজির জুস রাখুন। এই জুস খেলে শরীর ঠাণ্ডা রাখে ও হরমোন রেগুলেশনে সাহায্য করে। যেমন – গাজর, পুদিনা পাতা, করলার রস, ভিটামিন সি ইত্যাদি জাতীয় ফলের রস দিনে দুই বার খেতে পারেন। তবে মাসিক নিয়মিত করতে গাজর এবং আঙুরের রসই সব থেকে বেশি উপকারী।

আরও পড়ুন –  এলুমিনা ৩x

(ঝ) যোগ ব্যায়াম ও মেডিটেশন : আপনার মাসিক নিয়মিত না হওয়ার প্রাথমিক কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম কারণ হল স্ট্রেস অথবা মানসিক চাপ। শরীরে যে সমস্ত হরমোন মাসিক নিয়ন্ত্রণ করে স্ট্রেস-এর কারণে সেগুলোর ব্যাল্যান্স নষ্ট হয়। যাহার ফলে ঠিকমত মাসিক হয় না। যোগ ব্যায়াম ও মেডিটেশন স্ট্রেস দূর করতে সাহায্য করবে। মাসিক বা ঋতু¯্রাব নিয়মিত করতে সব থেকে উপকারী।

কয়েকটা বিষয় মনে রাখবেন, আপনার শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলেও অনিয়মিত মাসিক বা ঋতু¯্রাবের সমস্যা হতে পারে। এজন্য এই পদ্ধতিগুলোর পাশাপাশি আয়রন অথবা লৌহসমৃদ্ধ খাবার যেমন – গরু মাংস, মুরগীর মাংস, কলিজা, চিংড়ি, ডিম, কচুর শাক, লাল শাক, পালং শাক, মিষ্টি আলু, ফুলকপি, মটরশুঁটি, তরমুজ, খেজুর, গাব, টমেটো, ডাল, ভুট্টা, শস্যদানা ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে খাবেন ।
এসব ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চলেও যদি আপনার উপকার না হয় তা হলে অবশ্যই একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই উত্তম।

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। যদি এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

আরোগ্য হোমিও হল এডমিন :  এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথিক পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন।  এই ওয়েব সাইটটি কে কোন জেলা বা দেশ থেকে দেখছেন “লাইক – কমেন্ট” করে জানিয়ে দিন। যদি ভালো লাগে তবে “শেয়ার” করে আপনার বন্ধুদের জানিয়ে দিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।


এ জাতীয় আরো খবর.......
Design & Developed BY FlameDev