শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ০৬:১০ অপরাহ্ন

যৌনাঙ্গে চুলকানির ৭ টি কারণ ও প্রতিকার

আরোগ্য হোমিও হল / ১৭৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশ কালঃ সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৩, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন
যৌনাঙ্গ চুলকানির কারণ, প্রতিকার ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

যৌনাঙ্গে চুলকানির ৭ টি কারণ ও প্রতিকার

আরোগ্য হোমিও হল এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা এখানে আলোচনা করবো যৌনাঙ্গ চুলকানির ৭ টি কারণ ও প্রতিকার নিয়ে আজকের জনবো, এটা সবার জানা জরুরী! তো আর কথা নয় – সরাসরি মূল আলোচনায়।

নারীদের যৌনাঙ্গে চুলকানি বা ভ্যাজিনাল ইচিং এমন এক অস্বস্তিকর এবং যন্ত্রনাদায়ক রোগ যা ইরিটেবল সাবস্ট্যান্স, সংক্রমণ ও মেনোপসের কারণে হয়ে থাকে। সেক্সুয়্যালি ট্র্যান্সমিটেড ডিজিজ (STD) ও এর কারণ হিসাবে গণ্য করা হয়। কিছু রেয়ার ক্ষেত্রে স্ট্রেস অথবা ভালভার ক্যান্সারের রোগ লক্ষন হিসাবে ভ্যাজিনাল যৌনাঙ্গে ইচিং হয়ে থাকে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অসুখে দুশ্চিন্তার কারন হয় না, তবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে ।

মহিলাদের যৌনাঙ্গে চুলকানির কারণ :
১) অস্বস্তিজনক পদার্থ (Irritants) রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসলে সমগ্র শরীরসহ ভ্যাজাইনা বাযৌনাঙ্গে একপ্রকার অ্যালার্জিক রিয়াকশন সৃষ্টি হয় যার ফলে সারা শরীর সহ যৌনাঙ্গে বা ভ্যাজাইনাতে র্যাশ দেখা দেয়। সাধারণ ভাবে এই irritants গুলো হল :

(ক) সাবান ব্যবহার।

(খ) ফেমিনিন স্প্রে ব্যবহার ।

(গ) টপিকাল কন্ট্রাসেপটিভ ব্যবহার ।

(ঘ) ক্রিম ব্যবহার ।

(ঙ) অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার ।

(চ) ডিটারজেন্ট ব্যবহার ।

(ছ) ফেব্রিক সফটনার ব্যবহার ।

(জ) সেন্টেড টয়লেট পেপার ব্যবহার ।

(২) চর্মরোগ : কিছু কিছু চর্মরোগ যেমন- দাউদ, একজিমা, সোরিয়াসিস জেনিটাল এরিয়াতে অস্বস্তি, চুলকানি তৈরি করে। একজিমা হচ্ছে এক ধরনের র্যাশ যা সাধারণত অ্যাজমা অথবা অ্যালার্জিতে ভোগা ব্যাক্তিদের বেশি হয়ে থাকে। র্যাশ লাল হয়ে থাকে, আঁশের মতো হয় এবং যেসব মহিলারা এই রোগে ভুগছেন তাঁদের জেনিটাল এরিয়াতেও আসতে আসতে ছড়িয়ে পড়ে।

সোরিয়াসিস : সোরিয়াসিস একটি কমন চর্মরোগ যা থেকে লাল, চুলকানি যুক্ত এবং মাছের আঁশের মতো গঠনের ছোপ তৈরি করে স্ক্যাল্প এবং জয়েন্টে। এটি ছড়িয়ে পড়লে জেনিটাল এরিয়াতেও সাধারণত হয়ে থাকে।

(৩) ইস্ট ইনফেকশান : ইস্ট হল এক প্রকার প্রাকৃতিক ছত্রাক, এটি সাধারণত ভ্যাজাইনা বা যৌনাঙ্গতে থাকে এটি সাধরণত কোনো সমস্যার সৃষ্টি করে না। কিন্তু যখন এই ইস্টের পরিমান মাত্রাতিরিক্ত ভাবে বেড়ে যায় তখনই তা সংক্রমণের সৃষ্টি করে। এটি ভীষণ সমস্যা সৃষ্টি করে। প্রতি ৪ জন মেয়ের ভেতর ৩ জন মহিলার ভ্যাজিনাল ইস্ট ইনফেকশানে সংক্রমণ হতে পারে। সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স সম্পূর্ণ করার পর ইস্ট ইনফেকশনের প্রবনতা বেড়ে যায়, কারন হলো অ্যান্টিবায়োটিক খারাপ ব্যাকটেরিয়ার সাথে সাথে ভালো ব্যাকটেরিয়াকেও ধ্বংস করে দেয় এবং শরীরে ইস্টের পরিমান নিয়ন্ত্রণ রাখতে ভালো ব্যাকটেরিয়ার প্রয়োজন পড়ে। ইস্ট ইনফেকশানের কারণে চুলকানি, জ্বালাভাব এবং লাম্পি ডিসচার্জ হয়ে থাকে।

(৪) ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস :  এটিও ভ্যাজিনাল বা যৌনাঙ্গ ইচিং এর খুব সাধারণ কারন। ভালো ও খারাপ ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ তারতম্যের কারনে এটি সাধারণত হয়ে থাকে। খারাপ ব্যাকটেরিয়ার পরিমান বেড়ে গেলেই ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস হয়ে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে সবসময় রোগলক্ষন দেখা যায় না, তবে রোগ লক্ষন যে গুলো হয় তা হল ভ্যাজিনাল বা যৌনাঙ্গ ইচিং এবং ফাউল স্মেলিং এর ডিসচার্জ। ডিসচার্জ ধূসর ও সাদা বর্নের হতে পারে।

(৫) সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ : অসুরক্ষিত যৌন মিলন সংসর্গের ফলে সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ হতে পারে, যার ফলে ভ্যাজিনাল বা যৌনাঙ্গ ইচিং হয়। যেমন –

(ক) ক্ল্যামাইডিয়া।

(খ) জেনিটাল ওয়ার্টস।

(গ) গনোরিয়া।

(ঘ) জেনিটাল হার্পিস।

(ঙ) ট্রিকোমোনিয়াসিস এর ফলে সাধারণত ভ্যাজিনাল এরিয়াতে অ্যাবনর্মাল গ্রোথ এবং তার সাথে হলুদ অথবা সবুজ বর্নের ভ্যাজিনাল যৌনাঙ্গ ডিসচার্জ হয়ে থাকে।

(৫) মেনোপজ : যে সব নারীদের মেনোপজ চলছে অথবা হয়ে গেছে তাদের ভ্যাজিনাল বা যৌনাঙ্গে ইচিং হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মেনোপজের কারণে ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিমান কমে যাওয়ার ফলে যৌনাঙ্গে মিউকাস পাতলা হতে থাকে, যাহার ফলে ড্রাইনেস বেড়ে যায়। ইহার কারনে ইচিং এবং ইরিটেশন তৈরি হয়। এর জন্য অবশ্যই সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন পড়ে।

(৬) স্ট্রেস : কোন নারী শারীরিক ও মানসিক চাপ যদি শরীরে প্রভাব পড়ে তবে তার প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর প্রভাব বিস্তারের কারনেও ভ্যাজিনাল ইচিং হতে পারে। যদিও এটি খুবই রেয়ার দেখা যায়।

(৭) ভালভার ক্যান্সার : ভালভার ক্যান্সার খুব রেয়ার দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে ভ্যাজিনাল ইচিং ভালভার ক্যান্সারের রোগ লক্ষন হতে পারে। রোগের একদম প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে এটি ভাল হয়ে যায় যায়, তাই প্রতি বছর গাইনিকোলজিকাল চিকিৎসকের কাছে চেক আপ করা প্রয়োজন। ভালভার ক্যান্সারের তেমন রোগ লক্ষন থাকে না, তবে যে লক্ষনগুলি দেখা যায় তা হল, ভ্যাজিনাল বা যৌনাঙ্গের ইচিং, অস্বাভাবিক রক্তপাত, যন্ত্রণা ইত্যাদি।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন : আপনার ভ্যাজিনাল বা যৌনাঙ্গে ইচিং যদি এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং তা দৈনন্দিন জীবন-যাপন ও ঘুমকে ব্যাহত সৃষ্টি করে। যদি নিম্নলিখিত উপসর্গগুলি আপনা থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।

(ক) ভ্যাজিনাল বা যৌনাঙ্গের এরিয়াতে ফোস্কা।

 

(খ) জেনিটাল এরিয়াতে যন্ত্রনা করে।
(গ) জেনিটাল এরিয়াতে লাল ও ফোলা ভাব দেখা দেয়।

(ঘ) অস্বাভাবিক পরিমাণে ডিসচার্জ হয়।

(ঙ) মূত্রত্যাগের সময় সমস্যা হয়।

(চ) যৌন মিলনের সময় সমস্যা হয়।

যৌনাঙ্গে চুলকানির ঘরোয়া প্রতিকার :
জীবন যাত্রার কিছু পরিবর্তন এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে ভ্যাজিনাল বা যৌনাঙ্গের ইচিং থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। কিছু নিয়ম অবশ্যই পালন করা উচিত তা নিন্মে দেওয়া হলো ।

(ক) উষ্ণ জল ও কম ক্ষারযুক্ত সাবানের মাধ্যমে জেনিটাল এরিয়া পরিস্কার রাখুন।

(খ) সুগন্ধি সাবান, লোশনের ব্যবহার বন্ধ করুণ।

(গ) ভ্যাজিনাল স্প্রে ব্যবহার বন্ধ করুণ।

(ঘ) সাঁতার ও এক্সারসাইজ এর পরেই পোশাক ও অন্তর্বাস পবির্তন করুণ।

(ঙ) সুতির অন্তর্বাস পরিধান করুণ।

(চ) ইস্ট ইনফেকশানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত টক দই খেতে হবে।

(ছ) যৌন মিলনের সময় কন্ডোম ব্যবহার করুণ।

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যতœবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। যদি এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

আরোগ্য হোমিও হল এডমিন : এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথিক পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। এই ওয়েব সাইটটি কে কোন জেলা বা দেশ থেকে দেখছেন “লাইক – কমেন্ট” করে জানিয়ে দিন। যদি ভালো লাগে তবে “শেয়ার” করে আপনার বন্ধুদের জানিয়ে দিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।


এ জাতীয় আরো খবর.......
Design & Developed BY FlameDev