মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

যোনিপথে বা জরায়ু মুখে ইচিনেস এর কারণ, লক্ষণ ও করণীয়

আরোগ্য হোমিও হল / ১৭৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশ কালঃ বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩, ১:৫৫ অপরাহ্ন

যোনিপথে বা জরায়ু মুখে ইচিনেস এর কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ

আরোগ্য হোমিও হল এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা এখানে আলোচনা করবো নারীদের যোনিপথে বা জরায়ু মুখে ইচিনেস এর কারণ ও লক্ষণ কী তা নিয়ে আজকের জনবো, এটা সবার জানা জরুরী! তো আর কথা নয় – সরাসরি মূল আলোচনায়।

ভ্যাজাইনা নারী দেহের সব থেকে স্পর্শকাতর জায়গাগুলোর মধ্যে একটি। যোনিপথের ইচিনেস সব বয়সের মহিলাদের মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা। এটি খুব অস্বস্তিকর ও কষ্টদায়ক উভয়ই হতে পারে। যা একজন মহিলার সুস্থ জীবন-যাপনে প্রভাবিত করে। জরায়ু মুখ অথবা যোনিপথ ইচিনেস সাধারণত ইনফেকশনের কারণে হয়ে থাকে। একে সামগ্রিক ভাবে ভ্যাজাইনাইটিসও বলা হয়। ইহার ফলে সাদা স্রাব, ইচিনেস ও ব্যথা হতে পারে। মেনোপজের পরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়া ফলে কিছু স্কিনের ইনফেকশনের কারণেও ভ্যাজাইনাইটিস হতে পারে।

ভ্যাজাইনাইটিসের প্রকারভেদ :
(ক) সাধারণ ইচিনেস : এ ক্ষেত্রে সাধারণত ভ্যাজাইনা ও তার আশেপাশে ইচিনেস হয়।

(খ) নির্দিষ্ট স্থানের ইচিনেস : ইচিনেস ভ্যাজাইনা এর নির্দিষ্ট স্থানেও হতে পারে, যেমন ভালভা, ল্যাবিয়া বা পেরিনিয়াম ইত্যাদি।

যোনিপথে বা ভ্যাজাইনাল ইচিনেস এর লক্ষণ ও উপসর্গ :
(১) ইচিনেস : ইচিনেস সবচেয়ে সাধারণ এবং সুস্পষ্ট লক্ষণ হলো ভ্যাজাইনাল ইচিনেস। ইহা দেখতে লালচে ও ফোলা ভাব, আক্রান্ত স্থান লাল ও ফোলা হতে পারে।

(২) জ্বালাপোড়া : ইচিনেসের পাশাপাশি সবসময় অথবা প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হতে পারে।

(৩) অস্বাভাবিক স্রাব : মহিলাদের এটা স্বাভাবিকভাবেই মাসের বিভিন্ন সময় কিছুটা ¯্রাব স্রাব নির্গত হয়। কিন্তু জরায়ু মুখে কোনো ইনফেকশন হলে (৩) ইচিনেসের পাশাপাশি সাদা স্রাবের পরিমান, রঙ, গন্ধ সব কিছুতে পরিবর্তন হতে পারে।

(৪) ব্যথা বা অস্বস্তি : ইন্টিমেটের সময় বা প্রস্রাবের সময় ইচিনেসের কারণে ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে।

আরও পড়ুন –  জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণ, করনীয় ও হোমিওপ্যাথি ঔষধ

যোনিপথে ইনফেকশন ও ইচিনেসের কারণ :
(ক) ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনাইটিস : কোনো কারণে যোনিপথে প্রাকৃডুশ ভাবে জন্মানো ব্যাকটেরিয়া গুলোর অতিরিক্ত পরিমাণে বৃদ্ধি হলে ব্যাক্টেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ইচিনেস হতে পারে।

(খ) ইষ্ট ইনফেকশন : ক্যান্ডিডা অ্যালবিকানস নামক ছত্রাকের সংক্রমনের ফলে যোনিপথে ইনফেকশন হতে পারে। যা ইষ্ট ইনফেকশন নামেও পরিচিত। এর কারণেও জরায়ু বা যোনিপথে ইচিনেস হয়।

(গ) ট্রাইকোমোনিয়াসিস : ট্রাইকোমোনাস ভ্যাজাইনালিস নামক পরজীবীর সংক্রমনের ফলেও ভ্যাজাইনা অথবা জরায়ু মুখে ইচিনেস হতে পারে। এই পরজীবী সাধারণত যৌন বাহিত রোগ। ইন্টার কোর্সের ফলে এই পরজীবী সংক্রামিত হহয়ে থাকে।

(ঘ) এসটিডি (STD) : ক্ল্যামাইডিয়া, গনোরিয়ার মত যৌন বাহিত রোগের কারণেও জরায়ু মুখে বা যোনি পথে ইচিনেস হতে পারে।

ঙ) অ্যালার্জি : সাবান, ডিটারজেন্ট, ল্যাটেক্স বা ব্যক্তিগত যত্নের পণ্য ব্যবহারের ফলে পার্শপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ইচিনেস হতে পারে।

(চ) স্কিনে জ্বালাপোড়া : আঁটসাঁট পোশাকের ঘর্ষনের ফলে জরায়ু মুখে বা যোনি পথে আশেপাশে জ্বালা যন্ত্রনা হতে পারে। এছাড়াও অতিরিক্ত আর্দ্রতার ফলে বা অন্তর্বাস বেশিক্ষন ভেজা থাকে অথবা ঘর্ষণের ফলে ইচিনেস হতে পারে।

(জ) হরমোনের পরিবর্তন : মেনোপজ, গর্ভাবস্থা বা হরমোন থেরাপির কারণে জরায়ু বা যোনিপথ শুষ্ক হয়ে যায়, যার কারনেও ইচিনেস হতে পারে।(ঝ) স্কিন ডিজিজ : স্ক্লেরোসিস বা একজিমার মতো চর্ম রোগের কারণে জরায়ু বা যোনিপথের আশেপাশে ইচিং হতে পারে।

আরও পড়ুন –   যোনির ক্যান্ডিডায়াসিস বা সংক্রমণের ৫টি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

জরায়ুর মুখ বা যোনিপথে ইনফেকশন ঝুঁকির কারণ :
(১) ভ্যাজাইনার চারপাশ ঠিকমত পরিষ্কার না রাখা অথবা অতিরিক্ত পরিষ্কার করার জন্য সাবান বা বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহারের কারণে ভ্যাজাইনা যোনিপথ স্বাভাবিক উপকারি জীবাণুগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে ইনফ্লামেশন অথবা প্রদাহ হয়ে চুলকানি হতে পারে।

(২) আনপ্রটেক্টেড ইন্টারকোর্সের ফলে এসটিডি ছড়ায় যার কারণেও জরায়ুর মুখে বা যোনি ইচিনেস অথবা ঘা হতে পারে।

(৩) গর্ভাবস্থায় শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের ফলে অনেক সময় মহিলাদের ভ্যাজাইনা বা যোনি পথে ইচিনেস বৃদ্ধি পায়।

(৪) অ্যান্টিবায়োটিক অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে ভ্যাজাইনাল ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যকে নষ্ট করে। যাহার কারনেও ইষ্ট ইনফেকশন বৃদ্ধি পেতে পারে।

(৫) ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে যে কোনো ধরনের ইনফেকশনের ভালো হতে সময় লাগে। জরায়ুর মুখ বা যোনি পথে ইচিনেসের কারণে যে কোনো রোগ ডায়াবেটিসের কারণে বেড়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন –   এইচ আর – ৪৯ (মহিলাদের অনুন্নত গ্রন্থিতে কার্যকর)

জরায়ুর মুখ বা যোনি পথে ইচিনেসের প্রতিরোধে করণীয় :
ভ্যাজাইনাল বা জরায়ুর মুখ অথবা যোনি পথে ইচিনেস প্রতিরোধ ও জরায়ুর মুখ বা যোনি পথে হেলথ বজায় রাখতে হাইজিন বজায় রাখতে বাতাস চলাচল করে এমন অন্তর্বাস পরিধান করা উচিত। আর্দ্রতা ও ঘর্ষণ কমাতে সুতির অন্তর্বাস এবং ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করতে হবে। প্রটেক্টেড ইন্টারকোর্স জরায়ুর মুখ বা যোনি পথে ইচিনেস প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। ভ্যাজাইনা পরিষ্কার করতে হালকা, গন্ধহীন সাবান ও পানি ব্যবহার করতে পারেন। জরায়ুর মুখ বা যোনি পথে কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করা ঠিক নয়। আপনা যদি ডায়াবেটিস থেকে থাকলে তা নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। জরায়ু মুখ বা ভ্যাজাইনাল অথবা যোনি পথে ইচিনেস এর বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সঠিক যতœ, স্বাস্থ্যবিধি এবং ঝুঁকির কারণ সম্পর্কে একটু সচেতন থাকলে ভ্যাজাইনাল বা জরায়ুর মুখ অথবা যোনি পথের ইচিনেস অনেক ক্ষেত্রে প্রতিরোধ করা সম্ভব। জরায়ুর মুখ বা যোনি পথে অথবা ভ্যাজাইনা ও তার আশেপাশে স্বাস্থ্যকর এবং আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সঠিক রোগ নির্ণয় চিকিৎসার জন্য একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। যদি এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

আরোগ্য হোমিও হল এডমিন : এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথিক পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই ওয়েব সাইটটি কে কোন জেলা বা দেশ থেকে দেখছেন “লাইক – কমেন্ট” করে জানিয়ে দিন। যদি ভালো লাগে তবে “শেয়ার” করে আপনার বন্ধুদের জানিয়ে দিন।


এ জাতীয় আরো খবর.......
Design & Developed BY FlameDev