শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:১৬ অপরাহ্ন

মাসিকের সময় অসহ্য যন্ত্রণা কেন হয়?

আরোগ্য হোমিও হল / ১৬৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশ কালঃ রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৫:৫১ অপরাহ্ন
মাসিকের সময় অসহ্য যন্ত্রণা কেন হয়

মাসিকের সময় অসহ্য যন্ত্রণা কেন হয়?
আরোগ্য হোমিও হল এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা এখানে আলোচনা করবো মেয়েদের মাসিকের সময় অসহ্য যন্ত্রণা কেন হয়? যন্ত্রণা কারণ, অ্যাডেনোমায়োসিস কী, অ্যাডেনোমায়োসিসের লক্ষণ, অ্যাডেনোমায়োসিসের চিকিৎসা নিয়ে আজকের আলোচনা, এটা সবার জানা জরুরী! তো আর কথা নয় – সরাসরি মূল আলোচনায়।

পিরিয়ড বা মাসিকের সময় এলেই মহিলার সবচেয়ে বেশি ভয় থাকে ব্যথা নিয়ে। অনেকেই ভোগেন ডিসমেনোরিয়ায়। তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে কোমর, ঊরু এমনকি পা পর্যন্ত। পিরিয়ড বা মাসিক চলাকালীন অসহ্য যন্ত্রণার অন্যতম কারণ হলো জরায়ু মোটা ও আয়তনে বড় হয়ে যায়। সারা মাসই প্রায় মহিলা হেসে খেলে দিন কাটানোর পর নির্দিষ্ট চার পাঁচটি দিন প্রায় প্রত্যেক নারীর কাছেই যেন বিভীষিকাময় দিন পার করে। অস্বস্তি অথবা শরীর দুর্বলের কথা বাদ দিলেও যে সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় তা হল প্রচন্ড ব্যথা। কোমর ও তলপেটে অসহ্য ব্যাথাতেই কাহিল হয়ে পড়ে বেশির ভাগ নারী। এই ব্যথা বাড়তে বাড়তে শরীরের সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। হাত-পা, পিঠে ব্যথায় সমস্ত শরীরটাই অভিশপ্ত হয়ে উঠে। এই কষ্টটা যাঁর হয় তিনি বুঝেন অন্য কেউ আর বোঝেন না। এ সমস্যা ১২ বছরের কিশোরী হোক আর ৪২ মধ্যবয়স্কা হোক। এ পিরিয়ড মাসিকের যন্ত্রণা সইতে হয় অনেক নারীকে।

এই অসহ্য যন্ত্রণা কারণ কী?

পিরিয়ড বা মাসিক চলাকালীন অসহ্য যন্ত্রণার অন্যতম কারণ হতে পারে জরায়ু মোটা এবং আয়তনে বড় হয়ে গেলে এই সমস্যায় ভোগেন নারীরা। এর পোশাকী নাম অ্যাডেনোমায়োসিস। নারী শরীরের সারা দেহে অভ্যন্তরীণ নানা পরিবর্তন হতে থাকে অনবরত। এই পরিবর্তন ফলে শরীরের নানা রোগ বাসা বাধে। আর এরই প্রভাব পড়ে জরায়ুতে। সমস্যা শুরু হয় পিরিয়ড অথবা মাসিক, প্রেগন্যান্সি এবং মেনোপজের কারণে নারী দেহের যে ভয়ানক পরিবর্তন হওয়ায় জেরবার হয়ে যায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কৈশোরকালে নারী দেহের প্রথম পরিবরর্তন শুরু হয়, কৈশোরকালে পিরিয়ড বা মাসিক শুরু হওয়ার মাধ্যমে। মোটামুটি বেশিরভাগ মহিলারই পিরিয়ড বা মাসিক চলাকালীন অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় নারীকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ ব্যথা বলেই চার পাঁচদিন কাটিয়ে দেয় মহিলারা। এ বিষয়ে মায়েরাও বিশেষ গুরুত্ব দেন না। বরং মায়েরা এই ব্যথা সহ্য করার পরামর্শ দেন। কিংবা ব্যথা কমাবার ঘরোয়া টোটকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু মনে রাখবেন এই অতিরিক্ত যন্ত্রণা বা ব্যথা যে বড়সড় রোগের পূর্বাভাস হতে পারে তা বেশির ভাগ মারা বা মহিলাই গুরুত্ব দেন না ।

ঔষধ সম্পর্কে আরও পড়ুন –  যন্ত্রণাদায়ক মাসিক বা ঋতুস্রাবের ব্যথায় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

অ্যাডেনোমায়োসিস কী?
জরায়ুর (এন্ডোমেট্রিয়াম) অভন্তরস্থ্য যে কোষগুলি জরায়ুর প্রাচীর (মায়োমেট্রিয়াম) তৈরি করে সেগুলির অবস্থানের এক অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে প্রায়ই মহিলারা গর্ভাশয় বড় হয়ে যায়। এই অবস্থাকই বলা হয় অ্যাডেনোমায়োসিস। আর এই অবস্থা যন্ত্রণাদায়ক মাসিক বা পিরিয়ডের প্রধান কারণ। অ্যাডেনোমায়োসিস সাধারণত মধ্যবয়সী মহিলা এবং সন্তানের মায়েদের শরীরের বেশ প্রভাব ফেলে।

ঔষধ সম্পর্কে আরও পড়ুন –  অনিয়মিত ঋতুস্রাবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

অ্যাডেনোমায়োসিসের লক্ষণ :
অল্প থেকে মারাত্মক একেক ধাপে অ্যাডেনোমায়াসিসের লক্ষণ হতে পারে একেক রকম। নিন্মে কিছু তার কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ উল্লেখ করা হলো :
(ক) অতিরিক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা ঋতুস্রাব হওয়া।
(খ) পিরিয়ড চলাকালীন তলপেটে ভয়ানক যন্ত্রণা এবং খিঁচুনি হওয়া।
(গ) ইন্টারকোর্সের সময় যন্ত্রণা বা ব্যথা।
(ঘ) পিরিয়ড বা মাসিকের নির্দিষ্ট সময়ের মাঝেই হঠাৎ রক্তপাত শুরু হয়
(ঙ) পেটে চাপ এবং ফুলে যায়।
(চ) জরায়ুতে প্রদাহ হয়।
(ছ) অ্যানিমিয়া দেখা দেয়।
(জ) প্রজনন ক্ষমতা লোপ পায়।
(ঝ) প্রসারিত জরায়ু হয়।

ঔষধ সম্পর্কে আরও পড়ুন –  অতিরিক্ত রক্তস্রাব বা মেনোরেজিয়ায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

অ্যাডেনোমায়োসিস – এন্ডোমেট্রিয়োসিস : অ্যাডেনোমায়োসিস – এন্ডোমেট্রিয়োসিস উভয়েই এন্ডোমেটিরিয়াল কলার অসুখ বা ব্যাধি। অতএব এই দুটি একে অপরের সঙ্গে ওতোপ্রোত ভাবে জড়িত। এমনকি উভয়ের লক্ষণগুলিও প্রায় একইরকম হয়ে থাকে। তা সত্ত্বেও এই দুইয়ের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে তা হল এন্ডোমেটিরিয়াল কলার বৃদ্ধি।

এন্ডোমেট্রিয়োসিস- এন্ডোমেট্রিয়োসিস : এন্ডোমেট্রিয়োসিস- এন্ডোমেট্রিয়োসিস অবস্থা হল যখন এন্ডোমেটিরিয়াল কোষগুলি নির্দিষ্ট স্থানের পরিবর্তে বাইরে যেমন – তলপেট, পেলভিস, ওভারি কিংবা গর্ভে বৃদ্ধি হয়।

ঔষধ সম্পর্কে আরও পড়ুন –  এইচ আর – ২১ (মাসিক সমস্যায় কার্যকর)

অ্যাডেনোমায়োসিস- অ্যাডেনোমায়োসিস অবস্থা হল যখন কোষগুলি জরায়ুর দেওয়ালে বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে যাই হোক না কেন উভয় সমস্যার জন্যই পিরিয়ড বা মাসিক চলাকালীন ভয়ানক যন্ত্রণা হতে পারে। অথবা হতে পারে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। আবার কথনও যন্ত্রণা এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে একসঙ্গেও।

অ্যাডেনোমায়োসিসের চিকিৎসা : অ্যাডেনোমায়োসিসের লক্ষণের উপর নির্ভর করে চিকিৎসা করা হয়। এছাড়াও মেনোপোজে সময়ে উপরও এর চিকিৎসা নির্ভর করে। মেনোপোজের পর অ্যাডেনোমায়োসিসের সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে কমে যায়। এক্ষেত্রে চিকিৎসকরা অনেক সময় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি ওষুধ খাওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়াও নানা হরমোনাল চিকিৎসা যেমন- ইস্ট্রোজেন-প্রোজেস্টিনের উৎপাদন কম, হরমোনযুক্ত প্যাচ, কিংবা ভ্যাজাইনাল রিং পরার পরামর্শ দেন। ব্যথার জন্য কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ দেওয়া হয়।

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। যদি এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

আরোগ্য হোমিও হল এডমিন : এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথিক পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন।  এই ওয়েব সাইটটি কে কোন জেলা বা দেশ থেকে দেখছেন “লাইক – কমেন্ট” করে জানিয়ে দিন। যদি ভালো লাগে তবে “শেয়ার” করে আপনার বন্ধুদের জানিয়ে দিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।


এ জাতীয় আরো খবর.......
Design & Developed BY FlameDev