মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন

ঋতুস্রাবের কোন সময় চিকিৎসকের কাছে যেতেই হবে

আরোগ্য হোমিও হল / ১২৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশ কালঃ রবিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৪:১৭ অপরাহ্ন
অতিরিক্ত ঋতুস্রাবে অবহেলা করলে ফল হতে পারে মারাত্মক

ঋতুস্রাবের কোন সময় চিকিৎসকের কাছে যেতেই হবে
আরোগ্য হোমিও হল এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা এখানে আলোচনা করবো মেয়েদের সাদা স্রাবের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া পদ্ধতি কি তা নিয়ে আজকের জনবো, এটা সবার জানা জরুরী! তো আর কথা নয় – সরাসরি মূল আলোচনায়।

মহিলাদের জন্য ঋতুস্রাব একাধারে একটি আশীর্বাদ ও অভিশাপস্বরূপ। নিয়মিত ঋতুস্রাবে শরীর থেকে দূষিত রক্তগুলো বের হয়ে যায়, ঠিক তেমনিই ঋতুস্রাব চলাকালীন পাঁচ থেকে সাত দিন মহিলাদের নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। সাধারণত মহিলাদের ২৮ দিন পরপর ঋতুস্রাব হয়ে থাকে। তবে এই সময়কাল ব্যক্তিভেদে কিছু ভিন্ন হতে পারে। এই ঋতুস্রাব সময় গুলোতে সাধারণত তলপেটে ব্যথা, মুড সুইং, স্তন ফুলে যাওয়া এবং ব্যথা হওয়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। এই লক্ষণ বা উপসর্গগুলো মসিকের সময় দেখা দেওয়া এটা খুবই স্বাভাবিক, তবে মানে রাখতে হবে ঋতুস্রাবের কারণে ব্যথার পরিমান বাড়লে সেটা অবশ্যই আশঙ্কার বিষয়। ঋতুস্রাবের সময় পার হয়ে দেরিতে ঋতুস্রাব হওয়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হলেও যদি নিয়মিত ঋতুস্রাব না হয় অথবা ঋতুস্রাব কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায় তবে অবশ্যই যেতে হবে চিকিৎসকের কাছে। ঋতুস্রাবের বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে যার কারণে ঋতুস্রাব হতে পারে অনিয়মিত বা এসব লক্ষণ থেকে হতে পারে মারাত্মক কোনো বড় অসুখ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই লক্ষণ কি কি?

(১) অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ : ঋতুস্রাবের শুরুর প্রথম দুদিন রক্তক্ষরণের পরিমান সামান্য বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু মানে রাখবেন ঋতুস্রাব চলাকালীন যদি আপনি দুইঘণ্টা পরপর স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্যাড বদলাতে হয় তবে সেটা মোটেও কোনো ভালো লক্ষণ নয়। এমন সমস্যা যদি নিয়মিত হতে থাকে তবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

(২) ৭ দিনের বেশি ঋতুস্রাব হওয়া : ঋতুস্রাব যদি সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি দিন ধরে চলে থাকে তবে সেটা আশঙ্কার বিষয়। অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের কারণে যেমন শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে তেমনি এটা জরায়ুর অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণও হতে পারে, তাই আপনাকে সতর্ক থাকা খুব জরুরী।

(৩) ঋতুস্রাব দেরিতে শুরু হওয়া অথবা শুরুর পর বন্ধ হয়ে যাওয়া : মেয়েদের দেরিতে ঋতুস্রাব শুরু হওয়াকে বলা হয় প্রাইমারি অ্যামেনোরিয়া। ঋতুস্রাব যদি সঠিক সময়ে শুরু হয় অর্থাৎ ১৬ বছরে মধ্যে শুরু না হয় অথবা শুরু হওয়ার পর হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়, তাকে সেকেন্ডারি অ্যামেনোরিয়া বলে। এই দুই ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ঔষধ সম্পর্কে জানুন – এইচ আর – ২১ (মাসিক সমস্যায় কার্যকর)

 (৫) ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত ব্যথা : ঋতুস্রাবের সময় ব্যথা মহিলাদের একটি অন্যতম সমস্যা। ঋতুস্রাবের সময় হালকা ব্যথা হওয়াটা স্বাভাবিক। ব্যথা যদি অতিরিক্ত হয় তবে তা চিন্তার বিষয়। এর সাথে যদি আপনার ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, বমিভাব থাকে তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

(৬) অনিয়মিত ঋতুস্রাব : জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা অথবা মানসিক অবসাদ, যে কোনো কারণেই অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে। আবার কোন মহিলা যদি গর্ভবতী হন, সে ক্ষেত্রে বাচ্চা প্রসবের পর তাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর শেষ পর্যন্ত ঋতুস্রাব বন্ধ থাকতে পারে। যদি এই কারণগুলো ছাড়া কোনো কারণে আপনার ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসক দেখান।

(৭) ঋতুস্রাবের সময় স্তনে ব্যথা : ঋতুস্রাবের সময় হাল্কা স্তনের চারপাশে ব্যথা হওয়া বেশ প্রচলিত একটা সমস্যা। তবে এই ব্যথা যদি অতিরিক্ত হয় তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় স্তনের চাকা ভাব থেকে স্তন ক্যানসারে সম্ভবনা থাকে।

(৮) ডায়রিয়া অথবা বমি বমি ভাব বা বমি : সাধারণত ঋতুস্রাবের সময় জরায়ু থেকে প্রোস্টাগ্যানডিস নামক এক ধরণের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণের কারণে অনেক সময় মাথাঘোরা বা বমি বামি ভাব বা বমি অথবা ডায়রিয়ার মত লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে যদি এই লক্ষণগুলো খুবই গুরুত্বর পর্যায়ে দেখা দেয়, সে ক্ষেত্রে আপানাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ঔষধ সম্পর্কে জানুন – গাইনো কার্ড ট্যাবলেট (শ্বেত প্রদর ও মাসিকের সম্যাসায় টনিক)

(৯) মুড সুইং : ঋতুস্রাব চলাকালীন মেজাজ খিটখিটে বা অবসাদ অনুভব করা খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। ঋতুস্রাবের আগে বা পরের এই পরিবর্তন হওয়াকে বলে পোস্ট মেন্সট্রুয়াল সিনড্রম বা পিএমএস। অস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন নামক দুটি হরমোনের কারণে এমন সমস্যা হতে পারে। এসময় খাদ্যাভাসে পরিবর্তন বা মেডিটেশনে ভালো ফল পাওয়া যায় বলে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

(১০) মাইগ্রেন : এক সমীক্ষায় যানা যায়, প্রতি দশজন মহিলার মধ্যে চারজন ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে মাথাব্যথা অথবা মাইগ্রেনের শিকার। শরীরের হরমোনাল পরিবর্তনের ফলে ব্রেইনে এক ধরণের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, যা থেকে এই মাথাব্যথার সূত্রপাত হয়ে থাকে। তবে এই মাথাব্যথা যদি অসহনীয় পর্যায়ে হয় তবে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।


আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। যদি এই পোস্টটি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

আরোগ্য হোমিও হল এডমিন :  এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথিক পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। এই ওয়েব সাইটটি কে কোন জেলা বা দেশ থেকে দেখছেন “লাইক – কমেন্ট” করে জানিয়ে দিন। যদি ভালো লাগে তবে “শেয়ার” করে আপনার বন্ধুদের জানিয়ে দিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।


এ জাতীয় আরো খবর.......
Design & Developed BY FlameDev